লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিয়ে সালাহ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় দগ্ধ শাহিনুর মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তরুণীর শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তরুণী শাহিনুর চট্টগ্রাম থেকে স্ত্রীর দাবি নিয়ে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকন আয়ুব নগরের মহর আলীর ছেলে রিকশাচালক সালাহ উদ্দিনের কাছে আসেন। শুক্রবার বিকেল থেকে স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেন শাহিনুর।
শাহিনুর জানিয়েছিলেন, মুঠোফোনে সম্পর্ক ও পরে তাদের বিয়ে হয়। দেড় বছর আগে চট্টগ্রামে বিয়ে হয় তাদের। পরে শাহিনুর জানতে পারেন সালাহ উদ্দিন বিবাহিত। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান আছে।
রোববার বিকেলে শাহিনুর সালাহ উদ্দিনের বাড়িতে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে শাহিনুর ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
স্থানীয় ইউপি মেম্বারের কাছে গেলে বিয়ের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন। এরপর সালাহ উদ্দিনের বাড়ির অদূরে অগ্নিদগ্ধ হন শাহিনুর। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে করইতলা হাসপাতালে ও পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন জানান, দগ্ধ ওই নারীকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিকেল প্রেরণ করা হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।
শাহিনুর চট্টগ্রামের রাউজানের নতুন হাট এলাকার সোনাগাজী গ্রামের জাফর আলমের মেয়ে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহিনুর আক্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি তার স্বামী সালাহ উদ্দিনের কাছে আসলে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দিয়ে উল্টো তার শরীরের কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুঠোফোনে সম্পর্কের জের ধরে দেড় বছর আগে সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলে দাবি করেন।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন জানান, তরুণীর অগ্নিদগ্ধের কারণ ও অভিযুক্ত সালাহ উদ্দিনকে খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
