নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে আজও বিক্ষোভ করছে কয়েক শ তরুণ-তরুণী। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যখন বিশ্ব নেতৃত্ব পিছুটান দিয়েছে তখন বিশ্বের বেশ কয়েকটি উন্নত দেশে জেগে উঠেছে তরুণরা। লন্ডনেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে আন্দোলন। লন্ডনে পুলিশ গত কয়েক দিনে সহস্রাধিক আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত পাঁচ বছরে বিশ্বের মানুষ পাঁচটি উষ্ণতম বছর দেখতে পেয়েছে। বিশ্বের ৪১০টি জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন নির্গমিত হতে দেখা গেছে গত পাঁচ বছরে। এই পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড গত ৩০ লাখ বছরেও হতে দেখা যায়নি। মনুষ্যসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া ছাড়াও খরা, বন্যা ও সুনামির মতো প্রলয়ংকরী ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বের মানুষ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে প্রতিদিন ১৫০টি প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। গতকাল ছিল আর্থ ডে বা বিশ্ব পৃথিবী দিবসের ৪৯তম বার্ষিকী। আধুনিক পরিবেশবাদী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্বে এক বিলিয়নের বেশি মানুষ কাজ করছে। এদের মধ্যে একজন পরিবেশবাদী আন্দোলনের নেতা ভিল্লাসেনর। গত নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে ১ লাখ ৫৩ হাজার একর জমি, ১৯ হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে যায় এবং অন্তত ৮৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একজন ভিল্লাসেনর। ওই ঘটনার পর থেকেই তিনি পরিবেশবাদী আন্দোলনে জড়িয়ে যান। এমনই আরেকজন আন্দোলনকর্মী সুইডেনের মাত্র ১৬ বছর বয়সী থুনবার্গ। গত বছর গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপের কারণে তার স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। ওই ঘটনার পর তিনি প্রায় এক সপ্তাহ দেশটির পার্লামেন্টের সামনে ‘স্কুল স্ট্রাইক ফর ক্লাইমেট’ শীর্ষক প্ল্যাকার্ড নিয়ে বসেছিলেন এবং স্থানীয় নেতাদের প্রতি দাবি জানান প্যারিস চুক্তি ২০১৫ বাস্তবায়ন করতে। সে সময় তিনি কিছু লিফলেট প্রকাশ করেছিলেন; যেখানে লেখা ছিল, ‘আমি এটা করছি কারণ আপনারা বড়রা আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছেন।’ থুনবার্গের ওই আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয় ভিল্লাসেনরের মতো আরও অনেকে। গত মার্চে ১০০টির বেশি দেশের ১৪ লাখ তরুণ একযোগে আন্দোলনে নামে। ভিল্লাসেনর ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ গঠনের দায়িত্বে। তার ভাষ্য, ‘যেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেখানে আমি এখন স্কুলে গিয়ে কী করব। স্কুলে গিয়ে শেখার চেয়ে আমি জাতিসংঘের সদর দপ্তরের বাইরে বসে অনেক বেশি শিখছি।’
গত মার্চে যখন শিক্ষার্থীরা পৃথিবীকে ধ্বংস থেকে বাঁচাতে আন্দোলন করছে তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে তাদের সমালোচনা করেন। সমালোচনা করে মে বলেছিলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের মূল্যবান ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, র্যালির জন্য শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের বিচার করা হবে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে সরসারি বলা হয়েছিল, ‘আমরা তোমাদের কথা শুনছি। কিন্তু আমরা এসব মানি না। তোমাদের বক্তব্য জাদুঘরে থাকার যোগ্য।’ কিন্তু মার্চের ১৫ তারিখের ওই আন্দোলন ধামাচাপা পড়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চের হামলার ঘটনায়।
