করতোয়া নদী খননে দুর্নীতি বরাদ্দের টাকা ‘ভাগাভাগি’

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৫৬ পিএম

পঞ্চগড়ে নদী খননে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। সদ্য খনন করা করতোয়া নদীর মধ্যে চলছে বোরো চাষ। তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের কাজ শেষ করে বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নদী খননের কোনো সুফল দৃশ্যমান না হওয়ায় এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী খননের নামে হরিলুট করা হয়েছে।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় জেলার বোদা উপজেলার বিলুপ্ত নাজিরগঞ্জ ও দইখাতা ছিটমহল এলাকায় করতোয়া নদীর ৫ কিলোমিটার খননকাজ শুরু হয় গত বছর। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও তড়িঘড়ি করে মাত্র তিন মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে বরাদ্দের ৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকার মধ্যে ৮ কোটি ৮৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। অথচ সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা ঘুরে নদী খননের দৃশ্যমান চিহ্ন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। নদীর খননকৃত স্থানে স্থানীয়রা এখন বোরো ধানের চাষাবাদ করছেন।

গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নারায়ণগঞ্জ সোনাকান্দা বন্দরের ‘ডকইয়ার্ড বন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নদী খননের দায়িত্ব পায়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি ‘পার্থসারথী সেন’ নামে রংপুরের এক ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন করে। পার্থসারথী পরে আরও পাঁচজনকে শেয়ারে নিয়ে কাজটি তিন মাসের মধ্যেই শেষ করে।

নামমাত্র নদী খনন করে প্রকল্পের টাকা ‘আত্মসাৎ’ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে এ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী ওই এলাকার বারুণী মন্দির এলাকা থেকে কালিয়াগঞ্জ বাজার এলাকা পর্যন্ত করতোয়া নদীর ৫ কিলোমিটার এলাকায় তিন মিটার গভীর ও ৬০ মিটার প্রশস্ত খননকাজ করার কথা থাকলেও এক মিটারের বেশি খনন করা হয়নি। খননের মাটি-বালু দুইশ মিটার দূরে ফেলার কথা থাকলেও তা নদীর তীরের পাশেই ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিকমতো কাজ না করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, নদী খনন নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিতভাবে নদীর বালু ও পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। আর দালাল চক্রের একাধিক সদস্য এই বালু ও পাথর বিক্রি করেও হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা। নদী খননে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে পানির স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে পাউবো।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নদী খননে কোনো অনিয়ম হয়নি। খননের এক মাসের মধ্যে নদী আবার ভরাট হয়ে যেতে পারে। 

কাজলদিঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলাল বলেন, ‘খননে অনিয়ম ও ঠিকমতো কাজ না করে টাকা ভাগাভাগি করায় সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে।’ এই প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এই জনপ্রতিনিধি। তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পুরো নদী খনন না করে কেবল ওই ৫ কিলোমিটার খননে কোনো লাভ হয়নি। বরাদ্দের টাকা ঠিকাদারকে পরিশোধ করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কাজ শেষে বোর্ডের বিশেষ টাস্কফোর্স কর্র্তৃক পরিমাপ অনুযায়ী বিল প্রদান করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত