দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর মাইকিং করে সালিস বসানো হয়। বৈঠকে স্কুলছাত্রীর পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ধর্ষক রাজি হলেও বয়সের কারণে আটকে যায় বিয়ে।
অবশেষে স্কুলছাত্রীর বাবা রোববার রাতে পার্বতীপুর মডেল থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন।
মঙ্গলবার ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোরীকে (১৬) বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত আবিদুল ইসলাম (২৫)। বুধবার এপ্রিল রাতে ওই ছাত্রীকে অপহরণের পর রাতভর ধর্ষণ করে সে। ভোরবেলা ছাত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আবিদুল ইসলাম পালিয়ে যায়।
ভিকটিমের বাবা জানান, বুধবার রাতে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। সকালে প্রতিবেশী আবিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় গ্রামের মানুষ সালিস বৈঠকের আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার রাতে আবারো সালিস বৈঠক বসলে ধর্ষক ওই ছাত্রীকে বিয়ে করতে সম্মত হয় বলে জানায় অনেকে।
এরপর শুক্রবার গ্রামের গোলাম মোস্তফা নামের এক যুবক পুরো গ্রামে মাইকিং করে তৃতীয় দফা সালিস বৈঠক ডাকে।
ইউপি সদস্য আরশাদ আলী বলেন, প্রথম দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ছাত্রীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ছাত্রীর পরিবারকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল।
পার্বতীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমআর আবু সাঈদ জানান, এ ঘটনায় থানায় ধর্ষণ মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। অভিযুক্ত আবিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
