মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলের কাচিন প্রদেশে একটি রত্নপাথরের খনি ধসে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকরা ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানা যায়।
পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, হপাকান্ত এলাকার ওই খনিতে এত বড় ভূমিধস হয় যে, পুরো এলাকা ‘কাদা লেকে’ পরিণত হয়ে গেছে।
আর এর নিচেই চাপা পড়েছেন ৪০টি গাড়িতে থাকা শ্রমিকরা। এসব গাড়ি শ্রমিকদের কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাতে ঘুমিয়ে ছিলেন তারা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মতে, সোমবার রাতে শ্রমিকরা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন ধসের ঘটনা ঘটে। ফলে তাদের কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “মাত্র তিনটি মরদেহ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৫১ জন এখনো নিখোঁজ।”
স্থানীয় এক প্রশাসন কর্মকর্তা বলেন, “তাদের বেঁচে থাকার কথা নয়। যেভাবে মাটির নিচে তারা চাপা পড়লো, বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।”
জানা গেছে,‘শোয়ে নগর কোয়ে কাউং’ এবং ‘মিয়ানমার থুরা জেমস’ নামের দু’টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে খনিটিতে রত্নপাথর উত্তোলন চলছিল। ভূমিধসের কারণ এখনো জানা যায়নি।
ভারত ও চীন সীমান্তের কাচিন প্রদেশে একাধিক খনি থেকে ২০১৪ সালে তিন হাজার কোটি ডলারের রত্নপাথর উত্তোলন করে মিয়ানমার।
তবে দুর্বল নিরাপত্তা, আর নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ফলে দেশটির অন্যতম এ প্রাকৃতিক খাতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গত বছরেও শুধু কাচিনেই এমন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে কয়েকশ’ শ্রমিকের।
