মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়ায় ঋণের টাকা আদায়ের জন্য এক ঋণ গৃহিতাকে সারাদিন এক কক্ষে আটকিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ‘আম্বালা ফাউন্ডেশন’র বিরুদ্ধে। বুধবার সাটুরিয়া এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ঋণ গ্রহীতাকে উদ্ধার করে দুই এনজিও কর্মকর্তাসহ ৪ জনকে আটক করেছে। সাটুরিয়া থানার এসআই মো. রফিক নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সাটুরিয়া আম্বালা ফাউন্ডেশন থেকে ২০১৭ সালে নভেম্বর মাসে বরাইদ ইউনিয়নের মো. নজরুল ইসলাম ২ লাখ টাকা ঋণ নেন আম্বালা ফাউন্ডেশন থেকে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা পরিশোধ করেন নজরুল। বুধবার সে অফিসে গেলে সাটুরিয়া শাখার ম্যানেজার মারুফ ও এরিয়া ম্যানেজার কামরুজ্জামান মৃধা তাকে অফিসে আটকিয়ে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে। এ সময় ঋণ গ্রহীতার ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় ওই এনজিওর কর্মকর্তারা।
ঋণ গ্রহীতা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দুই বছর মেয়াদি ২ লাখ টাকা নিই এনজিও থেকে। মাসে ১১ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। পারিবারিক সমস্যার কারণে কিছুদিন কিস্তি পরিশোধ করতে পারিনি। বাকি কিস্তি জমি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। যে জমি বিক্রি করব সে জমির দলিলপত্র ওই এনজিওর কাছে জমা রয়েছে। বুধবার দলিলের খারিজের কপি আনতে গেলে আমাকে ওই এনজিওর কর্মকর্তা ম্যানেজার মারুফ, এরিয়া ম্যানেজার কামরুজ্জামান মৃধা এবং কর্মচারী সাগর এক রুমে আটকিয়ে মারধর করে আমার ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে আমি স্থানীয় লোকজন অফিসে এলে তাদের ঘটনাটি বলি। এরপর স্থানীয় লোকজন পুলিশ খবর দিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।
এরিয়া ম্যানেজার কামরুজ্জামান মৃধা বলেন, অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঋণ গ্রহীতা নজরুলকে কোন শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। তার কাছে টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকার জন্য তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল।
আম্বালা ফাউন্ডেশনের সাটুরিয়া শাখার ম্যানেজার মারুফ বলেন, ঋণ গ্রহীতা নজরুলের কাছে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। সে টাকা সে টাকা পরিশোধ করেনি। যে কারণে টাকা পাওয়ার জন্য তাকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে তাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগটি মিথ্যা।
সাটুরিয়া থানার এসআই মো. রফিক বুধবার সন্ধ্যায় জানান, আম্বালা ফাউন্ডেশনের সাটুরিয়া শাখার ম্যানেজার মারুফ, এরিয়া ম্যানেজার কামরুজ্জামান মৃধাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খবর দেওয়া হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।
