উচ্চতা এবং ফিজিক্যাল ফিটনেসে বাংলাদেশের চেয়ে বেশ এগিয়ে কিরগিজস্তান। তবে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপ ফুটবলে শুক্রবার দলটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের শক্তি ও সামর্থ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণই করেছে স্বাগতিক দল। সেই বিশ্লেষণ থেকে বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক মারিয়া মান্দা যা বলছেন তাতে আক্রমণে এলেই উল্টো বিপদে পড়তে পারে কিরগিজস্তান।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ব্যবস্থাপনায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত মেয়েদের আন্তর্জাতিক এই আসরে ইতিমধ্যে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে কিরগিজস্তানেরও। আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। আর একই দলের বিপক্ষে কিরগিজস্তান জয় পায় ২-১ গোলে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশই এগিয়ে। কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ড্র করলেই তাই গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিতে পা রাখবে গোলাম রব্বানী ছোটনের দল।
কিরগিজস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাসী রাখার জন্য আরো অনেক উপাদানই আছে। ২০১৬ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের বাছাইয়ে কিরগিজস্তানকে ১০-০ গোলের বন্যায় ভাসিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দলের প্রায় সবাই আছে এই দলটাতে। আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়া কৃষ্ণা রানী সরকার তো হ্যাটট্রিকই করেছিলেন সে ম্যাচে।
তবে এই আসর অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় বলে ম্যাচটা ভিন্নই হওয়ার কথা। বাংলাদেশ দল তাই সতর্ক। মারিয়া মান্দা যেমন বলছেন, ‘‘বিপক্ষ টিমকে তো আর দুর্বল বলা যাবে না। ওরাও এখানে এসেছে ভালো রেজাল্ট বা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। আমাদেরও লক্ষ্য ভালো রেজাল্ট করবো এবং চ্যাম্পিয়ন হবো।’’
আগের দিন আরব আমিরাতের বিপক্ষে কিরগিজস্তানের খেলা দেখেছেন মারিয়া। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এই মিডফিল্ডার যা বলছেন, তাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আক্রমণে এলেই বিপদে পড়তে পারে কিরগিজস্তান। দলের অন্যতম সেরা এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘‘আমরা যখন ওদের খেলা দেখেছি, সেটা থেকে বোঝা যাচ্ছে ওরা বেশি উপরের দিকে আসে। মানে ওপর দিকে থাকে। আমি মনেকরি সেই সুযোগে আমরা অ্যাটাক করতে পারবো। ডিফেন্ডাররা যদি উপরের দিকে বল পাঠিয়ে দিতে পারি তাহলে আমরা অ্যাটাক করতে পারবো এবং গোল বের করতে পারবো।’’
উচ্চতা এবং শারীরীক গঠনে কিরগিজস্তান এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন তা নিয়ে ভাবতে নারাজ। তার দল এরচেয়েও বড় বাঁধা পেরিয়ে এসেছে বলে দাবি তার, ‘‘উচ্চতা একটা সমস্যাই, এটা থাকবেই। বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। আমরা দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে আগে যখন খেলেছি, সবারই উচ্চতা বেশি ছিল। আমরা মেয়েদের রপ্ত করাতে চেষ্টা করেছি প্রতিপক্ষের সঙ্গে শারীরিক সংঘর্ষে যতো কম যাওয়া যায়। এই কৌশল নিয়েই খেলবে মেয়েরা।’’
