শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ জনসমাগম থাকে এমন এমন জায়গায় মোবাইল টাওয়ার থেকে কি পরিমাণ ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয়তা (রেডিয়েশন) ছড়ায় তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। দেশের সকল মোবাইল কোম্পানিগুলোর টাওয়ারের তেজস্ক্রিয়তার বিষয়ে সমীক্ষা করে চার মাসের মধ্যে বাংলাদেশ টেলি যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (বিটিআরসি) এ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয়তা নিরসনের বিষয়ে ১১ টি বিষয় নির্ণয়ের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এ সংক্রান্তে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে এ প্রতিবেদন চেয়ে এই আদেশ দিয়েছেন।
ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, কারাগার, খেলার মাঠ ও ঘন জনবসতিপূর্ণ জায়গায় স্থাপিত ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানো টাওয়ার সরাতে আদেশ দেয়া হবে বলে হাইকোর্ট তার রায়ে উল্লেখ করেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন মাত্রা নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১/১০ ভাগ করা, মোবাইল টাওয়ার বাসার ছাদ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কারাগার জনবসতিপূর্ণ এলাকা, হেরিটেজ ও প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা ইত্যাদি স্থানে না বসানো এবং যেগুলো বসানো হয়েছে তা অপসারণ করা, রেডিয়েশনের মাত্রা যেন বেশি না হয় সে বিষয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ, কোনও টাওয়ারের রেডিয়েশন মাত্রা বেশি হলে তা অপসারণ করে নতুন টাওয়ার বসানো, টাওয়ার ভেরিফিকেশন মনিটর পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিটিআরসির দায় দায়িত্ব বাধ্যতামূলক করা- এমন ১১ টি বিষয় নির্ণয়ের জন্য এই সমীক্ষা চালাতে হবে।
মনজিল মোরসেদ জানান, ২০১২ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। শুনানি নিয়ে মোবাইল কোম্পানিগুলোর টাওয়ারের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা, এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানকে মোবাইল ফোন টাওয়ার পরিদর্শন করে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
তিনি জানান, আদালতের আদেশ অনুসারে প্রতিবেদনে মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন খুবই উচ্চমাত্রার এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মর্মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন দাখিল করে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে সকল মোবাইল অপারেটর এবং বিটিআরসিকে এ মাত্রা কমাতে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারগুলো থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।
মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গবেষণা করে প্রতিবেদনে জানায়- দেশে ব্যবহৃত মোবাইল টাওয়ারগুলোর রেডিয়েশনের মাত্রা আন্তর্জাতিক মাত্রার তুলনায় বেশি। এরপর এ নিয়ে একটি নীতিমালার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট এবং বিটিআরসি নীতিমালা তৈরি করে আদালতে দাখিল করে। কিন্তু তা একাধিকবার সংশোধন করা হয়। আদালত সমীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ক্ষতিকর রেডিয়েশনের টাওয়ার সরাতে আদেশ দেবেন।’
