সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কিরগিজস্তানকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। শেষ চারে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ এখনো নিশ্চিত। তবে যে দলই সামনে আসুক তাদের নিয়ে ভারতে চায় না বাংলাদেশ। কিরগিজস্তানের বিপক্ষে সেরা খেলোয়াড় সানজিদা আক্তার তো বলেই দিলেন, আমরা জাপান-কোরিয়ার সঙ্গে খেলে অভ্যস্ত।
‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আরব আমিরাতকে ২-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে কিরগিজস্তানকে হারায় ২-১ ব্যবধানে। তবে দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান হতে পারত অনেক বেশি। যদি না সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ না হতো কৃষ্ণা-সানজিদারা।
বাংলাদেশের দুই জয়ের মাঝেও তাই গোল মিসের আক্ষেপ কখনো কখনো বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচ থেকে শুরু করে কেউই সে নিয়ে চিন্তিত নয়। বরং প্রতিনিয়ত নিজেদের উন্নতির প্রমাণ দিয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে শিরোপা রেখে দিয়ে চায় তারা।
সেই শিরোপা জয়ের পথে বাংলাদেশের প্রথম বাঁধা সেমিফাইনাল। ‘এ’ গ্রুপে থাকা মঙ্গোলিয়া দুই ম্যাচের একটিতে জিতেছে, হেরেছে অন্যটিতে। তাজিকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারানোর পর লাওসের কাছে তারা হারে ০-৫ গোলে। শনিবার লাওস ও তাজিকিস্তানের ম্যাচের পর নির্ধারিত হবে কোন দুটি দল পাচ্ছে সেমির টিকিট।
শক্তিশালী লাওস যদি ফাইনাল বা সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হয় বাংলাদেশের? দেশের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড সানজিদা বলছেন, ‘‘লাওস বড় ব্যবধানে হারিয়েছে মঙ্গোলিয়াকে। তারা শক্তিশালী দল, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের সঙ্গে ফাইনালে আমাদের খেলা হতে পারে। সে জন্য আমরাও তৈরি।’’
শারীরিক গড়নের দিক থেকে এগিয়ে বলে প্রতিপক্ষ নিয়ে কোনো ভয় আছে কিনা এমন প্রশ্নে সানজিদার সরাসরি বলে দিলেন কোনো ভয় নেই। মাঠে যেমন, ঠিক সেভাবেই বললেন, ‘‘ভয়ের কিছু নেই। জাপানা-কোরিয়ার মতো দলের সঙ্গে খেলে আমরা অভ্যস্ত, তাই লাওসকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাদের সঙ্গে দারুণ লড়াই হবে আশা করি।’’
কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই গোল করেন সানজিদা। এরপর সতীর্থ কৃষ্ণা রানী সরকারকে দিয়ে গোল করান। তাতে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পান এই ফরোয়ার্ড।
