লাবণ্যের মৃত্যু: গতির মধ্যেই ঘন ঘন ব্রেক চাপছিল উবার চালক

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৭:২১ পিএম

দ্রুত গতির সঙ্গে রাজধানীর কলেজ গেইটে দুর্ঘটনায় নিহত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফাহমিদা হক লাবণ্য যে মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন সে বার বার ব্রেক চাপছিল। যৌন হয়রানি করার জন্যই এমনটা করছিল সেই উবার চালক। এমনটা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, ‘অনেক সময় নারী যাত্রীরাও এ সকল রাইড শেয়ারিং করছে। অনেক সময় বিনা কারণে ড্রাইভার অসৎ উদ্দেশ্যে জোরে মোটরসাইকেল চালায় এবং ঘন ঘন ব্রেক কষে। লাবণ্যকে ড্রাইভ করার সময় চালক একই কাজ করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা বুঝতে পেরেছি। কাজেই তার মানসিকতা কেমন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

তিনি আরো বলেন, উভয় চালকের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে উবারের চালক বেপরোয়া ছিল। তার পেছনের কাভার্ডভ্যানটির চালকও বেপরোয়া ছিল। কাভার্ডভ্যান দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেলকে অতিক্রম করার সময় ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী লাবণ্য গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।’

রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব কুমার সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর আমরা প্রথমে বাইকারকে খোঁজ করছিলাম। আহত হয়ে হাসপাতালে গিয়ে বাইকার যে ঠিকানাটি দেয় তা ভুয়া ছিল। তার যে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেছিলাম তা বন্ধ ছিল। বাইকারের ওই নম্বরে একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা ছিল। বিকাশে দেওয়া ঠিকানাও ভুয়া ছিল। উবারে যে নম্বর দেওয়া তাও ভুয়া ছিল। বাইকার বিভিন্ন পর্যায়ে যে সব ঠিকানা দিয়েছে সেগুলো ছিল মিথ্যা। 

‘উবারে মোটরসাইকেল চালক সুমন ও তাকে ধাক্কা দেওয়া ইনফো ফোর্ট এর কাভার্ডভ্যান চালক আনিসুর দুজনই বেপরোয়া গতিতে ড্রাইভ করছিল। কাভার্ডভ্যানটি মোটরসাইকেলকে ওভারটেক করতে গিয়ে ধাক্কা দিলে ঘটে দুর্ঘটনা।’ 

‘তথ্য প্রযুক্তির সর্বশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার রাত একটা থেকে দেড়টার মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন নবীনগর হাউজিং দুই নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বিল্ডিং এর ৬ষ্ঠ তলা থেকে তাকে আটক করি’। 

‘এরপর শনিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার বাইশ মাইল এলাকা থেকে ইনফো ফোর্টের ঘাতক কাভার্ডভ্যানসহ চালক আনিসুর রহমানকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশের একটি দল। আনিসুরের বাড়ি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আশিনপাড়ায়’।

ডিসি বিপ্লব বলেন, লাবণ্যের পরিবারের দায়ের করা মামলায় কাভার্ডভ্যান চালক আনিসুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিতে উবার মোটর চালক সুমনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই সম্পৃক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যাওয়ার সময় রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতালের পাশের রাস্তায় উবারের মোটরসাইকেলকে কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনায় নিহত হন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাহমিদা হক লাবণ্য (২১)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত