উচ্ছেদের ২ মাসেই ফের হকারের দখলে গুলিস্তান

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৯, ০২:৩২ এএম

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানের ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার পর দুই মাস না যেতেই আবার হকারদের দখলে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে গুলিস্তান এলাকা হকারমুক্ত হওয়ায় এতদিন পথচারীরা স্বস্তিতে যাতায়াত করছিল। এক মাস পর থেকেই কিছু কিছু স্থানে ফুটপাত দখল করে বসতে থাকে হকাররা। এখন গুলিস্তান যেন আবার পুরনো অবস্থায় ফিরছে। এতে পথচারীদের ভোগান্তির পাশাপাশি প্রধান সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, জিপিও ভবনের পশ্চিম পাশের সড়ক, জিরো পয়েন্টের দক্ষিণ পাশে খদ্দর বাজার শপিং কমপ্লেক্স, গোলাপ শাহ মাজারের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত রমনা ভবন ও রেলওয়ে সুপার মার্কেট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ও ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনে ফুটপাত দখল করে বসেছে হকাররা। জিপিওর খদ্দর মার্কেটের সামনে থেকেই দেখা যায় ফুটপাতে হকাররা পসরা সাজিয়ে বসেছে। কিছু দূর সামনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বস্তাভর্তি মালামাল রাস্তায় ফেলে পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে হকার। জানতে চাইলে হকাররা বলেন, পুলিশের ভয়ে তারা দোকান খুলছে না। তবে কিছু দূর সামনে ভিন্ন দৃশ্য; লুঙ্গি, শার্ট বিক্রি করে যাচ্ছে। কেউ দোকান বন্ধ রেখে হাতে করে বিক্রি করছে পণ্য।

জানতে চাইলে পথচারী সাবু মিয়া জানান, ‘রাস্তা, ফুটপাত খালি থাকলেই ভালো হয়। তবে ফুটপাতে যারা ব্যবসা করে তাদের জন্য কিছু করা দরকার।’ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আয়নুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পথে লোকজন না বসতে দেওয়াই ভালো। এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। আর হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলেও তারা আবার ফুটপাতে চলে আসে। এ বিষয়ে সরকারকে আরও কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে।’ গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের সামনে চোখে পড়ে হকারদের দৌরাত্ম্য। এখানে সব ফুটপাত দখল করেই জুতা, ঘড়ি, শার্ট, প্যান্টসহ কাপড়ের দোকান নিয়ে বসেছে তারা। অবশ্য উচ্ছেদের আতঙ্কও হকারদের সারাক্ষণ তাড়া করে। জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার বলেন, ‘ফুটপাতে এখন নানা ঝামেলা। এক মিনিটে উঠাইয়া দিতে পারে। এর কোনো সমাধান নাই।’ আরেক হকার বলেন, ‘আমাদের তুইলা দিছিল। বহি, আবার দৌড় দেই। আসলে কোনো কিছু করার নাই।’ পথচারী মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু গুলিস্তান নয়, সরকারের উচিত রাজধানী শহরের সব ফুটপাত হকারমুক্ত করা।’

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হকার অবশ্যই ফুটপাতে বসতে পারে না। সামনে উচ্ছেদ অভিযান রয়েছে। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’ সময়সীমার ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, ‘সময় নির্ধারণ করা হয়নি, তবে কিছুদিনের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত