নুসরাতকে নির্বিঘ্নে হত্যার নিরাপত্তা দেয় তারা

আপডেট : ০৬ মে ২০১৯, ০৭:৪২ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যায় যুক্ত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুন।

সোমবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল জানান, ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুন নুসরাত হত্যার মূল পরিকল্পনায় ছিল বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা বলে, নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনায় ৪ এপ্রিল হাফেজ আবদুল কাদেরের কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তারা উপস্থিত ছিল। ঘটনার দিন মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কিলিং মিশনে অংশ নেয়াদের নিরাপদে বের হয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে বলে আদালতে স্বীকার করে তারা।

এর আগে বিকেলে কড়া নিরাপত্তায় ইফতেখার হোসেন রানা ও এমরান হোসেন মামুনকে আদালতে নিয়ে আসেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম।

৩টা থেকে বিচারক তাদের জবানবন্দি রেকর্ড শুরু করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ করেন।

এর আগে ২০ এপ্রিল রাঙামাটি টিঅ্যান্ডটি এলাকার একটি বাড়ি থেকে ইফতেখার হোসেন রানা ও কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে এমরান হোসেন মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পরে ২ মে বৃহস্পতিবার দুজনকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এমরান হোসেন মামুন সোনাগাজী পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের এবং ইফতেখার উদ্দিন রানা সোনাগাজী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈমান আলী হাজী বাড়ির বাসিন্দা।

দুজনই অধ্যক্ষ সিরাজ মুক্তি পরিষদের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১১ জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তারা হলো- নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মণি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন ও ইফতেখার হোসেন রানা।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মারা যায় নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামালা দায়ের করেন। মামলার এজহারভূক্ত আট আসামীসহ এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত