লোভনীয় অফার দিয়ে টার্কি মুরগি পালন করে লাখপতি হবেন অফার দিয়ে ৩শ গ্রাহকের ১০ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে স্বপ্ননীল গ্রুপের মালিক সালমান সানির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে সানিসহ তার স্ত্রী ও ভাতিজাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিবি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম এ সব তথ্য জানান।
ওই গ্রুপের গ্রাহক উত্তর ঠাকুরগাঁও গ্রামের আজাদুল ইসলাম গত ১৩ এপ্রিল জেলার সদর থানায় মামলা দায়ের করে। এরই সূত্র ধরে ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে স্বপ্ননীল গ্রুপের মালিক সালমান সানিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমান বন্দর থেকে সোমবার দুপুরে আটক করে। এ সময় তার স্ত্রী রওশন আরা (২৮) ও ভাতিজা আবু সালেম রাসেলকেও (২৩) আটক করা হয়।
রফিকুল ইসলাম জানান, বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্বপ্ননীল গ্রুপের মালিক ঢাকায় যাচ্ছিল। আটককৃত সালমান সানিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সদর থানায় মামলা ছাড়াও আরও দুই গ্রাহক বালিয়াডাঙ্গী থানা ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
স্বপ্ননীল মালিকের আটকের খবর শুনে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে ভিড় করে কয়েকশ গ্রাহক। এ সময় তারা আসলসহ লাভের টাকা ফেরতের দাবি জানান।
জানা যায়, একটি প্যাকেজ ২৫ হাজার টাকার ১৫টি টার্কি মুরগি ৩ মাস পালন করে গ্রাহকরা আসল বাদে লাভ পাবে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। সাথে আসল ২৫ হাজার টাকা তো পাবেই। এমন করে কেউ ৩ লাখ টাকা খাঁটিয়ে পাবেন ৩ মাসে ১ লাখ ২ হাজার টাকা লাভ করবেন। এ ধরনের লোভনীয় অফার দিয়ে স্বপ্ননীল গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার উত্তর সুজালপুরের সালমান সানি। নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেন ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের প্রায় সব উপজেলায়। ২৫ হাজার টাকার মাসে ১০টি প্যাকেজ করতে পারলে কর্মীদের বেতন মিলতো ১১ হাজার টাকা। এমন করে কর্মীও নিয়োগ দিয়ে ছিলেন ৫ শতাধিক। চার দিক থেকে কর্মীরা আনতো গ্রাহক। প্রতি মাসে আসত কয়েক লাখ টাকা। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকদের কাছ থেকে টার্কি মুরগি নেওয়ার পর লাভের টাকা দিতে গড়িমসি শুরু করেন সানি। দিনের পর দিন পার হলেও গ্রাহকদের লাভসহ আসল টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না স্বপ্ননীল গ্রুপের মালিক সালমান সানি।
ওই গ্রুপের ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা পর্যায়ের কর্মী আনোয়ার হোসেন বলেন, সর্বশেষ স্বপ্ননীল গ্রুপের মালিকের অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি টাকা জমা হয়। গ্রাহকদের টাকা দিতে তিনি গড়িমসি শুরু করেন। আনোয়ার হোসেন রানীশংকৈল উপজেলা থেকে ৫ জন গ্রাহকের ৩২ লাখ টাকা ওই গ্রুপে দিয়েছেন বলে জানান। তার মতোই দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার জামালপুর গ্রামের মামুন অর রশিদ ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করে ৪৮ জন গ্রাহকের ১২ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। এখন তার গ্রাহকরা টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। পঞ্চগড়ের জান্নাতুন নাহার বলেন, লাভের আশায় টাকা জোগাড় করে দিয়েছি। আজ আসলও নাই, লাভও নাই।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া গ্রামের সইদুল ইসলাম বলেন ৩ লাখ টাকা স্বপ্ননীল গ্রুপে দিয়েছি, কথা ছিল তিন মাসে ১ লাখ ২ হাজার টাকা দেবে। কিন্তু আজ তারা ওই টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। আমরা টাকা ফেরত চাই।
উল্লেখ্য, শুধু স্বপ্ননীল গ্রুপই নয়, তাদের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের বাসটার্মিনালের পাশে রংধনু টার্কি ও স্বপ্ন তরী নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ওই দুটি গ্রুপও ৫শ গ্রাহক তৈরি করে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এসব কর্মকাণ্ড হলেও সর্বস্বান্ত হয়েছে কয়েকশ গ্রাহক। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব কোম্পানি এসে মোটা অঙ্কের টাকা লোপাট করছে বলে জানায় ভুক্তভোগীরা।
