গণশুনানিতে বক্তারা

ওয়াসাকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে

আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ১০:০৪ পিএম

গ্রাহকদের সুপেয় পানি সরবরাহ করা খুব কঠিন কাজ নয়। ওয়াসা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করলেই এটা সম্ভব। কিন্তু তারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এ জন্য তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো উচিত।

মঙ্গলবার ‘নিরাপদ পানি: ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক গণশুনানিতে বক্তারা এমন মন্তব্য করেন। প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানির আয়োজন করে ‘ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন।

গণশুনানিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, নিরাপদ পানি পাওয়া আমাদের অধিকার। আমরা সরাসরি ট্যাপের পানি খেতে চাই। ওয়াসার সব কর্মকর্তাদেরও লাইনের পানি খেতে হবে। তাহলে তারা বুঝবে পানি কতটা খাওয়ার উপযোগী। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পানি শতভাগ সুপেয় হলে শরবত খাওয়ার ভয়ে আপনি পালালেন কেন?

তিনি বলেন, ‘পানি, নদী, বন সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের কিছুতেই কিছু যায় আসে না। ওয়াসার ময়লা পানি নিয়ে এত প্রতিবাদ হচ্ছে, অথচ তারা এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না।’

টাকার অভাবে নয়, টাকা খরচ করে নানা অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের কারণেই এ সমস্যাগুলো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওয়াসার যত প্রকল্প আছে, এগুলোর সঙ্গে কারা যুক্ত আছে, এগুলোর উদ্দেশ্য কি এবং এগুলোতে কী কী হচ্ছে সবকিছু জানার অধিকার জনগণের আছে। এগুলো অবশ্যই জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।’

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘৬ মাস আগে ওয়াসার কর্মকর্তা আমার বাসার ময়লা পানির স্যাম্পল নিয়ে গেলেন। আজ পর্যন্ত প্রতিবেদন দেননি। তারা বাসার কেয়ারটেকারকে বলে গেছেন পানিতে গন্ধ আসলে একটু ক্লোরিন দিয়ে দিতে।’

তিনি বলেন, যেসব আন্তর্জাতিক কোম্পানি পানি বাণিজ্যিকীকরণ করতে চায় তাদেরই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে ওয়াসা। তারা পানির মান ভালো করছে না কিন্তু প্রতি বছর মূল্য বৃদ্ধি ঠিকই অব্যাহত রেখেছেন। আমরা বোতলের পানি খেতে চাই না। ওয়াসার নিরাপদ পানি খেতে চাই।

ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘সুপেয় পানি মানে শুধু বিশুদ্ধ পানিই নয়, এর সঙ্গে শরীরের জন্য উপকারী কিছু খনিজও থাকবে। কিন্তু ওয়াসার পানিতে উল্টো গ্রাহকরা অসুস্থ হচ্ছেন। পানিতে কি পরিমাণ ক্লোরিন মেশানো হয় তা তারা জানায়নি। এর পরিমান বেশি হলে চুল পড়াসহ নানা রোগের উদ্ভব হয়। তিনি বলেন, ওয়াসা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো উচিত।

গণশুনানির শুরুতে রাজধানীর জুরাইনসহ বেশ কিছু এলাকার গ্রাহকরা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি নিয়ে ওয়াসার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হয়, পাইপলাইনের জন্য পানি অনেক সময় ময়লা হয়। পাইপলাইন তো আমাদের নয়। এটা ঠিক রাখা তাদেরই দায়িত্ব। ১৬ বছর ধরে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি পাচ্ছেন দাবি করে পুরান ঢাকার একজন গ্রাহক ওয়াসার বিরুদ্ধে মামলা করারও দাবি জানান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান। এর আগে তিনি ওয়াসার এমডিকে জুরাইনের ময়লা পানির শরবত খাওয়াতে এসে আলোচিত হন। ওয়াসা এমডির বিরুদ্ধে ওই কর্মসূচির পর থেকে তার এলাকায় পানি সমস্যা আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত