বিশ্বের সবগুলো সাগর-মহাসাগরের তলদেশ দখল করে ফেলছে প্লাস্টিক পণ্যসহ ক্ষতিকর সব বর্জ্য। এতে অস্তিত্বের মুখে পড়েছে লাখ লাখ জীববৈচিত্র্য।
মার্কিন ম্যাগাজিন টাইমের অনলাইন ভার্সন জানায়, পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে আজ মঙ্গলবার নতুন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে জাতিসংঘ।
এতে দেখা যায়, প্রতি বছর ৪০০ মিলিয়ন টন ভারী ধাতু, বিষাক্ত তরল এবং ক্ষতিকর সার পৃথিবীর পানিতে মিশে যাচ্ছে। যাতে বড় একটি অংশ হচ্ছে প্লাস্টিক পণ্য।
প্রতিবেদনটি জানায়, ১৯৮০ সাল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের হার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে মাছ আহরণ বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। শিল্পযুগের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীব্যাপী হারাতে হয়েছে ৮৫ শতাংশ জলাভূমি। সেই সঙ্গে ২১টি দেশে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ক্ষতিকর কীট-জীবানু।
এমন পরিস্থিতিতে হুমকির মুখে পড়েছে উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্য। ৫০টি দেশের ৪৫৫ জন গবেষক ও প্রদায়ক লেখকের তৈরি করা এ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আগামী কয়েক দশকে অস্তিত্ব হারাতে বসছে ১০ লাখ জীববৈচিত্র্য।
সরিস্রপ প্রজাতির উভচর প্রাণীর ৪০ শতাংশই হারিয়ে যাবে পৃথিবীতে। অস্তিত্ব হারাবে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর ৩৩ শতাংশ। ডলফিন, প্রবাল সহ এ ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী হারিয়ে যাবে ৩৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনটির গবেষকদলের নেতৃত্ব দেওয়া একজন অধ্যাপক জোসেফ সেটেল এক বিবৃতিতে বলেন, “বাস্তুতন্ত্র, কীট জগত, বন্য জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় জাতের গাছ-উদ্ভিদের নানা প্রজাতি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে, অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে বা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
বিশ্বব্যাপী উদ্ভিদ ও প্রাণী বৈচিত্র্য উন্নয়নের আইচি বায়োডাইভারসিটি টার্গেটের (সিবিডি) সামনে বড় ধরনের দুশ্চিন্তা হাজির করলো জাতিসংঘের এ প্রতিবেদন।
সিবিডির মাধ্যমে ২০২০ মধ্যে ২০টি দেশের জৈববৈচিত্র্য উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। ২০১১ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে জাপানের আইচিতে এ লক্ষ্যমাত্রার প্রতি সম্মত হন বিশ্বের পরিবেশবিদরা।
কিন্তু নতুন প্রতিবেদনে যে আশংখার কথা বলা হয়েছে, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি পুশিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতের ক্ষতি ঠেকানো এ অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
