উইকিলিকসের হাতে মার্কিন গোপন নথি তুলে দেওয়া সেনা কর্মকর্তা চেলসি ম্যানিং ৬২ দিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১০ সালে চেলসির ৩৫ বছরের কারাদণ্ড হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তা কমিয়ে সাত বছর করলে ২০১৭ সালে তিনি মুক্তি পান।
তদন্তে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত মার্চে ভার্জিনিয়ার এক বিচারক ৩১ বছর বয়সী ম্যানিংকে আবার জেলে পাঠান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গোপন নথি ফাঁসের দিক থেকে সেটি ছিল সবচেয়ে বড় ঘটনা। ওই ঘটনায় ব্র্যাডলি ম্যানিং নামের মার্কিন সেনার বিচার শুরু হয়। রায় ঘোষণার একদিন পর ব্র্যাডলি ম্যানিং জানান, তিনি লিঙ্গান্তর করে চেলসি ম্যানিং নাম নিয়েছেন। তিনি কানসাসের ফোর্ট লিভেনওর্থ কারাগারে পুরুষ বন্দীদের সঙ্গে থাকতে আপত্তি জানান।
২০১৬ সালে তিনি অন্তত দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, একবার অনশনেও গেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনী তার লিঙ্গ পরিবর্তন পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিলে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।
ছাড়া পেলেও ম্যানিংকে আবার জেলে যেতে হতে পারে। কারণ তার আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি আবার সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ম্যানিংকে সাত লাখেরও বেশি গোপন কূটনৈতিক, সামরিক নথি এবং ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত করে বিচারের আওতায় এনেছিল। এসব ভিডিওর মধ্যে ২০০৭ সালে ইরাকের বাগদাদে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে ১২ বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যার ভিডিও ছিল।
