পরিযায়ী পাখি দিবসের আলোচনা

সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের শিকার ১০ লাখ পাখি

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ০১:১৯ এএম

প্রতি বছর বিশ^জুড়ে ৩০ কোটি টনের বেশি প্লাস্টিক সামগ্রী মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার হয়। এর মধ্যে ৮০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে মেশার ফলে বছরে ১০ লাখের বেশি পাখি দূষণের শিকার হচ্ছে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনায় সভায় সাম্প্রতিক একটি গবেষণার বরাত দিয়ে প্রাণীবিজ্ঞানী তপন কুমার দে এই তথ্য জানিয়েছেন। বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস উপলক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও নেচার কনজারভেশন সোসাইটিসহ কয়েকটি সংগঠন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার। তিনি বলেন, ‘সমুদ্র এবং জলাশয় প্লাস্টিক বর্জ্য দ্বারা দূষিত হলে তার প্রতিকারের কোনো পরিকল্পনা এখনো নেওয়া হয়নি। সুন্দরবনের যে পাশ দিয়ে জলযান চলাচল করে, আমি নিজে সেইসব জলযানে একটি করে কন্টেইনার দিয়ে এসেছি যাতে তারা প্লাস্টিকের বর্জ্য সেখানে রাখতে পারে।’

উপমন্ত্রী বলেন, ‘পানির বোতল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেটসহ উড়ে বেড়ানো প্লাস্টিকগুলো আমাদের অনেক ক্ষতি করে। আমরা সচেতন হলে ৭৫ শতাংশ প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে দূরে থাকতে পারব। একইসঙ্গে জলজ প্রাণীগুলোকে হুমকির হাত থেকে রক্ষা করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে বনভূমি ছিল, এখন তার চিহ্নমাত্র নেই। কেটে শেষ করে ফেলেছে। উন্নত দেশ হিসেবে নিজেদের জাহির করার জন্য এটা করেছে। কিন্তু আমাদের প্রচুর বনভূমি আছে।’

প্লাস্টিক কুড়িয়ে বিক্রির প্রশংসা করে হাবিবুন নাহার বলেন, ‘যারা বিভিন্ন জায়গা থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য কুড়িয়ে বিক্রি করেন, তারা আসলে পরিবেশের উপকার করছেন।’ উপপ্রধান বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির চেয়ারম্যান ড. গুলসান আরা লতিফা, পাখি বিশারদ ইনাম আল হক প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত