শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ

১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই কমিটি অনুমোদন, পরে স্থগিত

আপডেট : ১২ মে ২০১৯, ১১:০৯ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটি অনুমোদন নিয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার ১২ ঘণ্টার মধ্যে পৃথক দুই কমিটি অনুমোদন দেওয়ার পর রাতেই তা স্থগিত করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা বিতর্ক।

১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বিশাল উপজেলা শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় চার বছর আগে। ওই সম্মেলনে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে আতাউর রহমান শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর্জা শাহদাত হোসেন খুররমকে পরাজিত করে বিজয়ী হন।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেও তিন বছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আটকে আছে চার বছর ধরে। সম্মেলনের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা করা হলেও দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তা অনুমোদন হয়নি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বেশ কয়েক দফা আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত আকারে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ওই সূত্র জানায়, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নানা মেরুকরণের পর গত শনিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দীন ম-ল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দীন আহম্মেদ শিমুলের উপস্থিতিতে ৪ বছর আগে সম্মেলনে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অ্যাড. আতাউর রহমানকে রেখে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, অনুমোদন পাওয়া কমিটিতে নূরুল পক্ষের অনেক প্রভাবশালী নেতাই বাদ পড়েন। কমিটি অনুমোদনের পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সৈয়দ নূরুল ইসলাম পক্ষের শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের একনেতা এবং জেলা যুবলীগ ও জেলা ছাত্রলীগের দুই নেতা শুরু করেন তৎপরতা। তৎপরতার অংশ হিসেবে প্রথম কমিটি অনুমোদনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে রাত ১১টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দীন ম-ল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ অনুমোদন দেন আরেকটি কমিটি। পরের কমিটিতে গোলাম রাব্বানীকে সভাপতি ও অ্যাড. আতাউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক রেখে প্রায় ২৫/২৬টি পদে পরিবর্তন এনে অনুমোদন নেওয়া হয়। ওই সূত্র জানায়, প্রথম অনুমোদন নেওয়া কমিটিতে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী সৈয়দ নজরুল ইসলামকে বাদ রাখা হলেও পরের অনুমোদন নেওয়া কমিটিতে বাদ রাখা হয় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কারিবুল হক রাজিনকে।

পাল্টাপাল্টি কমিটি অনুমোদনের ঘটনাকে ঘিরে বিতর্ক চরমে উঠলে ১১ মে তারিখেই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথ স্বাক্ষরে এক পত্রের মাধ্যমে অনুমোদন করা দুই কমিটিকেই স্থগিত করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দীন ম-লের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অনুমোদনের জন্য শিবগঞ্জ উপজেলা কমিটি আমার কাছে উপস্থাপন করা হলে অসুস্থতার কারণে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ না করেই অনুমোদন করে ফেলি। পরে জানতে পারি যে, গ্রহণযোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই কমিটিই স্থগিত করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত