বরগুনার আমতলীতে ষষ্ঠ বিয়ের অনুমতি না দেওয়ায় চতুর্থ স্ত্রীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে নিজাম মাতুব্বর (৫৪) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব চুনাখালী গ্রামের এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন চতুর্থ স্ত্রী নাসিমা বেগম।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পূর্ব চুনাখালী গ্রামের নিজাম পেশায় গরু ব্যবসায়ী। ১৯৯৫ সালে জাহানারা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। সেই ঘরে তার দুটি সন্তান হয়। তারপরও বিভিন্ন অজুহাতে তাকে তালাক দেন। এরপর বিয়ে করেন খাজিদা নামে আরেকজনকে। তিনটি ছেলে রেখে তাকেও তাড়িয়ে দেন। এরপর মারুফা বেগমকে বিয়ে করেন। তাকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে তাকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে নাসিমাকে বিয়ে করেন নিজাম। তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি মেয়ে। গত জানুয়ারিতে কাউকে না জানিয়ে এলাকার নীলা (১৩) নামে এক মেয়েকে গোপনে বিয়ে করেন নিজাম। এতেও সন্তুষ্ট নন তিনি। বর্তমানে ষষ্ঠ বিয়ের জন্য নাসিমা ও নীলার সম্মতি চান তিনি। নীলা সম্মতি দিলেও নাসিমা দেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৬ মে ঘরে আটকিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন নিজাম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
গত শনিবার রাতে নাসিমা নিজামকে প্রধান আসামি করে পঞ্চম স্ত্রী নীলা, তার মা রেহেনা বেগম ও স্থানীয় চৌকিদার জাকিরের নামে মামলা করেন।
গতকাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, নাসিমা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে সেলাই করা। চিকিৎসক হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নাসিমার বাহু, কোমর, পিঠ ও রানে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়াও নাসিমার স্পর্শকাতর স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
নাসিমা বলেন, ‘বিয়ের পর শতাধিক বার মারধর করেছে। মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে ওর সংসার করছি।’
প্রথম স্ত্রীর ছেলে রিয়ন বলেন, ‘বাবা এ পর্যন্ত পাঁচটি বিয়ে করেছেন। আবারও ষষ্ঠ বিয়ের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে বাধা দেওয়ায় আমাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছেন। তার জন্য সমাজে মুখ দেখাতে পারি না।’
একাধিক বিয়ে ও স্ত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করে নিজাম বলেন, ‘ছেলে এবং স্ত্রী আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। এ জন্যই কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মেরেছি।
আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার বলেন, ‘বিয়ে করতে বাধা দেওয়ায় চতুর্থ স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
