এমন অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নাকি গত ২০ বছরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দেখা যায়নি। এমনকি ১৯৯৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর আর্সেনালের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা মাথায় রেখেও এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রিমিয়ার লিগের সেই আসরে ৩৮ ম্যাচ পর স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ম্যানইউর পয়েন্ট ছিল ৭৯। ১ পয়েন্ট কম নিয়ে রানার্সআপ হয়েছিল আর্সেন ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল।
এবার লিভারপুল তাদের অভিযান শেষ করেছে ৯৭ পয়েন্ট নিয়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এই প্রথম এত বেশি পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা ছাড়াই থাকতে হলো লিভারপুলকে। শেষ ম্যাচে এসে শিরোপা নির্ধারিত হয়েছে এবার। প্রিমিয়ার লিগে এমন ঘটনা শেষবার ঘটেছিল সাত বছর আগে। ২০১১-১২ মৌসুমেও শেষ ম্যাচে লিগ শিরোপা জয় নিশ্চিত করেছিল ম্যানসিটি। সেবার সিটি আর ইউনাইটেডের পয়েন্ট ছিল সমান। শেষ পর্যন্ত গোল ব্যবধানে শিরোপা নিশ্চিত করেছিল সিটিজেনরা।
সেই ১৯৯০ সালে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছিল লিভারপুল। এরপর কেটে গেল প্রায় ৩০ বছর। এবার এত কাছে এসেও হতাশ হয়ে ফিরতে হলো তাদের। ম্যানেজার ইয়ুর্গেন ক্লপের সেই হতাশাকে একটু হলেও কমিয়ে দিতে পারে পেপ গার্দিওলার প্রশংসা। ম্যানসিটিকে এমন তুল্যমূল্য লড়াইয়ের পর শিরোপা এনে দেওয়া পেপ বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা লিভারপুলের কাছে
কৃতজ্ঞ। ওদের অনেক ধন্যবাদ। লিভারপুলের জন্যই আমরা নিজেদের খেলার মান আরও উন্নত করতে পেরেছি। বলতে পারেন, ওদের জন্যই চ্যাম্পিয়ন হতে আমাদের টানা ১৪টি ম্যাচ জিততে হয়েছে।’
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ৪ জানুয়ারি লিভারপুল খেলতে গিয়েছিল ম্যানসিটির চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে। সেই ম্যাচ জিতলে হয়তো শিরোপা অ্যানফিল্ডের থেকে যেত। কিন্তু সিটি সেই ম্যাচ জিতে পয়েন্ট ব্যবধান চারে নামিয়ে এনেছিল। তবে সেই সময় কী প্রবল চাপে ছিলেন শিরোপা জেতার পর স্বীকার করেছেন গার্দিওলা, ‘৭ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকার সময় মনে হচ্ছিল ব্যবধান আরও বাড়বে। হয়তো লিভারপুল এবার আমাদের চেয়ে ১০ পয়েন্ট এগিয়ে যাবে। এখন আমি শিশুদের মতো নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারব।’
রবিবার অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে ২৭ মিনিটের সময় গ্লেন মারের গোলে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাইটন। অ্যানফিল্ডে তখন উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল লিভারপুল। অল রেডরা সেই মুহূর্তে হয়তো ভেবেছিল তাদের ২৯ বছরের লিগ শিরোপা জেতার অপেক্ষার অবসান হবে। কিন্তু ৮২ সেকেন্ডের মধ্যে সেই ভাবনার অবসান ঘটে। ২৮ মিনিটে সার্জিও আগুয়েরো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে আমেরিক লাপোর্তের গোলে এগিয়ে যায় ম্যানসিটি। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ ও ৭২ মিনিটে সিটিজেনদের হয়ে আরও দুটি গোল করেন রিয়াদ মাহরেজ এবং ইকে গুয়ানদোগান। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে ব্রাইটনকে হারিয়ে ৯৮ পয়েন্ট নিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতে গার্দিওলার দল। শেষ ম্যাচে উলভারহ্যাম্পটনকে ২-০ গোলে হারানো লিভারপুল থামে ৯৭ পয়েন্ট নিয়ে।
শিরোপা জেতার পর সিটিজেনদের বস বলছিলেন, ‘আমার ফুটবলাররা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য মরিয়া ছিল। ওদের উজ্জীবিত করার জন্য আমাকে প্রায় কিছুই বলতে হয়নি। ম্যাচটার আগে দুই-তিন দিন ইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিয়ে আমি ফুটবলারদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করিনি।’ গত বছর ১০০ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জিতেছিল ম্যানসিটি। সেই প্রসঙ্গ টেনে গার্দিওলা বলেন, ‘আমাদের কাছে ৯৮ পয়েন্ট পাওয়াটা অবিশ্বাস্য। ইপিএল জয়ের লক্ষ্যটা আসলে আমরাই গত বছর এতটা উঁচুতে তুলে দিয়েছিলাম। আর এবার ট্রফি পেতে টানা ১৪টি ম্যাচ জিততে হয়েছে। মাত্র একটা পয়েন্ট নষ্ট করলেই সব শেষ হয়ে যেত। ফুটবল জীবনে এত কঠিন শিরোপা জিতিনি।’
লিভারপুলের ম্যানেজার ক্লপ অবশ্য শিরোপা না জিতলেও দলের পারফরম্যান্স দিয়ে সন্তষ্ট, ‘অল্পের জন্য লিগ শিরোপা জিততে পারিনি। কিন্তু আমার মনে হয় না লিভারপুলকে আগে কখনো কেউ এত ভালো খেলতে দেখেছে। আমি নিশ্চিত যে আমার কথাটা শতভাগ ঠিক। ম্যানসিটিকে অভিনন্দন। তবে চেষ্টা করেছি ওদের কাজটা যতটা সম্ভব কঠিন করে দিতে। আর এর জন্য দলের ছেলেদের নিয়ে আমার গর্বের শেষ নেই।’
