একমাস পর ক্লাস শুরু হয়েছে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে। এর আগে সিএসই বিভাগে সর্বশেষ ক্লাস হয়েছিল ৩ এপ্রিল। দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত আক্কাস আলীর বিচারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন এবং পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে অশালীন ও গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদকে মানহানিকর উল্লেখ করে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করায় বন্ধ ছিল এই বিভাগের সকল ধরনের ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম।
ক্লাস শুরুর বিষয়ে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী মেসবাউল হাসান বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমাদের ক্লাস শুরু হয়েছে। ধন্যবাদ জানাই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের। আশা করি ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ক আরও আন্তরিক হবে, নির্ভয়ে নিরাপদে আমরা পড়ালেখা করতে পারব এবং সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থীরা দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে।”
এর পাশাপাশি এই শিক্ষার্থী আশা করেন যে ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারসহ যে পাঁচ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে তারাও ন্যায়বিচার পাবে।
উল্লেখ্য, দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত সিএসই বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আক্কাস আলীর বিচারের দাবিতে ৭ এপ্রিল থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং ১৮ এপ্রিল তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী আক্কাস আলীকে চেয়ারম্যান পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারসহ ২০১৯ এর জানুয়ারি থেকে ২০২২ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত আট সেমিস্টারের জন্য সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করে।
আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পর শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যায়। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন সময়ে ফেসবুকে দেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্ট্যাটাসকে অশালীন এবং গণমাধ্যম প্রকাশিত সংবাদকে অবমাননাকর উল্লেখ করে ক্লাস নেওয়া বন্ধ করেন এই বিভাগের শিক্ষকরা।
এর পাশাপাশি ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারাদেশসহ পাঁচ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় কারণ দর্শাও নোটিশ। গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. নুরুদ্দীন আহমেদ স্বাক্ষরিত দুটো পৃথক চিঠিতে এই আদেশ দেওয়া হয় এবং ঐ ছয় শিক্ষার্থীকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার দপ্তরে তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
