সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলায় আহত ১০

আপডেট : ১৬ মে ২০১৯, ১১:৫০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী নাছিমা লুৎফর রহমানের প্রচার গাড়িবহরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের ইক্তারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন গাড়ি চালকসহ ১০ জন আহত হয়।

নাছিমা লুৎফর রহমানের ভাসুর ও তার নির্বাচনী সমন্বয়ক মোশাহেদ হোসেন বলেন, ‘বুধবার রাত ১০টার দিকে আমরা সিঙ্গারবিল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ভূঞা, জেলা জাতীয় পার্টির নেতা শেখ ইয়াছিনসহ ১০টি গাড়ি নিয়ে ইক্তারপুর গ্রামের বাজারে গণসংযোগ করতে যাই। গাড়িবহর নিয়ে ফেরার পথে উপজেলা যুবলীগ নেতা দর্পন ভূঞার নেতৃত্বে ২০-৩০ দুর্বৃত্ত লাঠিসোটা, রড ও দা নিয়ে গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বহরের আটটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আমরা তখন পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করি।’

তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা বহরের একটি মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-ছ-১১-০৬৫৯) আগুন ধরিয়ে দিলে সেটি পুড়ে যায়। হামলায় গাড়িচালক রমজান, লাক্কু, মোশারফ গনি, বহরে থাকা কর্মী রাজা মিয়া, আমির হোসেন, মুজিবুর রহমান, লিটন, শফিকুর রহমানসহ অনন্ত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা পুলিশ ও মাধবপুর থেকে ফায়ার সার্ভিস টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপজেলা যুবলীগের সহসম্পাদক দর্পন ভূঞা তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বুধবার তারাবি নামাজের পর আমাদের গ্রামের ওপর দিয়ে ১০-১২টি গাড়ি একসঙ্গে যেতে দেখে গ্রামের কয়েকজন যুবক তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা গাড়ি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিমা লুৎফরের নাম নিয়ে সেøাগান দিয়ে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কটু কথা বলতে থাকে। এ সময় যুবকরা পাল্টা নৌকার সেøাগান দিলে তারা গাড়ি থেকে নেমে নৌকার সমর্থক ওই যুবকদের ওপর হামলার চেষ্টা করলে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’

এ ঘটনার পর নিজের ফেইসবুক পেজে সম্ভাব্য প্রার্থী নাসিমা লুৎফর রহমান ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। আগামী ১৮ জুন বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদে লড়ার জন্য গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন নাছিমা লুৎফর রহমান। তিনি কুয়েত-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সভাপতি লুৎফর রহমানের স্ত্রী।

বিজয়নগর থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার আদিত্য জানান, খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত