নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক প্রতিবন্ধী ছাত্রী (১৪) ধর্ষণের শিকার হয়ে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক আকবর আলী (২৩) উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের পাঁচগাও পূর্ব জূলপাড়া গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের পাঁচগাও পূর্ব জূলপাড়া গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতেন ওই কিশোরী। ওই গ্রামেরই ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল চালক আকবর আলীর সঙ্গে পরিচয় হয়। আসা-যাওয়ার পথে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা হতো। তাদের মধ্যে এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
আকবর বিবাহিত এ কথা গোপন রেখে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। লোকলজ্জায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রতিবন্ধী কিশোরী এতদিন কাউকে বলেননি।
গত ১৪ মে কিশোরীর শরীরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হওয়ায় তার মা কলমাকান্দা প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন মেয়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। একাধিকবার ধর্ষণের ফলে প্রতিবন্ধী ওই ছাত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। এরপর ধর্ষণের বিষয়টি জানাজানি হয়।
পরে মেয়ে তার মাসহ পরিবারের লোকদের কাছে সব খুলে বলে যে ৩-৪ মাস পূর্বে ওই গ্রামের আকবর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে তাকে। লোকলজ্জায় ধর্ষণের বিষয়টি স্কুলছাত্রী এতদিন কাউকে বলেননি।
ভিকটিমের পরিবারের নিজস্ব মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় তার বাবা-মা নানার বাড়িতে থাকেন। সেখানে থেকেই পড়ালেখা করতেন ওই কিশোরী।
এ বিষয়ে ওই এলাকার ইউপি সদস্য মো. আক্কাস আলী জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। ভিকটিম সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের মধ্যে একজন।
এ বিষয়ে ব্র্যাক মানবাধিকার ও আইন সহায়তার কর্মকর্তা উৎপল কুমার দেব জানান, খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিনে যান এবং উনার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ও অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি সামজিক সালিশ অযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল করিম বলেন, “তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মোটরসাইকেল চালক আকবর আলীকে আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। স্কুলছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ও ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শনিবার সকালে পাঠানো হবে। আসামিকে গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে ওসি মো. মাজহারুল করিম জানান।
