কটিয়াদির লোহাজুড়ি ইউনিয়নের তরুণী ঢাকা ইবনে সিনার সিনিয়র নার্স তানিয়াকে চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে-না কাটতেই আবারও কিশোরগঞ্জের কটিয়াদির একই ইউনিয়নে এক কিশোরী(১৫) কে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে কটিয়াদি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
মামলার বিবরণে ও ধর্ষিতার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লোহাজুড়ির ইউনিয়নের উত্তর লোহাজুড়ির গ্রামের কিশোরীর সাথে পার্শ্ববর্তী দশপাখি গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে সুমনের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল।
গত এক মাস পূর্বে তাদের দুইজনের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা অবনতি হয়। পরে ঘটনার কিছুদিন পূর্বে আবার তাদের সম্পর্ক পুনরায় ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
ঘটনার দিন গত শনিবার ফোনে সুমন ওই কিশোরীকে বিয়ে করবে বলে ফুসলিয়ে সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের করে একই ইউনিয়নের পূর্বচরপাড়া গ্রামে নিয়ে যায়। ওখানে সুমনের বন্ধু শোভনের বাড়িতে উঠে এবং রাতভর ধর্ষণ করে সুমন।
পরদিন রবিবার সকালে সুমন ও তার দুই বন্ধু শোভন এবং শামীম কিশোরীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা পাকুন্দিয়ায় ঘুরতে যায়। সারাদিন ঘুরা-ঘুরি করে সন্ধ্যা একটি বাড়িতে ওঠে তারা।
ওই বাড়িতে আটকিয়ে রেখে সারারাত তিন বন্ধু মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
পরদিন সোমবার সন্ধ্যার পর ওই এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুর রাশিদের হাতে ধর্ষণের শিকার মেয়েকে কৌশলে বুঝিয়ে ফেলে তিন বন্ধু পালিয়ে যায়। যাবার সময় তারা শাসিয়ে যায় যে, কাউকে রাতের ঘটনা বললে পরিবারসহ জ্বালিয়ে দেব।
এ ঘটনার খবর পুলিশের কাছে পৌঁছালে ধর্ষকদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাশিদকে আটক করে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে কিশোরীর বাবা থানায় বাদী হয়ে ইউপি সদস্যসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কটিয়াদি থানায় মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ষকদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার দায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে এ ব্যাপারে জানানো যাবে। ইউপি সদস্যকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
