ধানখেতে আগুনের ঘটনা বগুড়া নয় পাঞ্জাবের: হানিফ

আপডেট : ২৩ মে ২০১৯, ০৯:৫৪ পিএম

বগুড়ার ধানখেতে আগুন লাগার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। সুযোগ পেলেই তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। বর্তমানে তারা ধান নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

‘সম্প্রতি বগুড়ার ধানখেতে কোনো আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ভারতের পাঞ্জাবের একটি গমখেতের আগুন দেওয়ার ঘটনাকে ষড়যন্ত্র করে ফেসবুকে পোস্ট করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজনে ‘নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: শেখ হাসিনার অবদান’ শীর্ষক সেমিনার তিনি এসব বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আমাদের সব সংগঠন, শুধু মহিলা আওয়ামী লীগ না,  আমাদের যুবলীগ বলেন, ছাত্রলীগ বলেন, আওয়ামী লীগ বলেন- দল করি আমরা, দলের কর্মী-নেতা, স্লোগান দিচ্ছি জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

‘শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো আমার আছি তোমার সঙ্গে। স্লোগান দিয়ে যাচ্ছি।  কিন্তু যে আর্দশটা ধারণ করে আমাদের রাজনীতি  চলার পথ, সেটা কিন্তু আমার অনেকই জানি না’।

‘এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাস বা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও আমরা জানি না। যে বাংলাদেশ মানেই হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এক ও অভিন্ন একটা অংশ, অবিচ্ছেদ্য। এই বাংলাদেশের সৃষ্টির সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জড়িত’। 

তিনি বলেন, আজকে দেখুন বাংলাদেশর দুটি ধারা৷ একটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নেতৃত্বে। আরেকটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে এই বাংলাদেশে স্বাধীনতার বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী। মুক্তিযুদ্ধের আর্দশবিরোধী ধারা সৃষ্টি হয়েছে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। এর সৃষ্টি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার নেতৃত্ব শুরু হয়েছিল, সেটা উত্তরাধিকার সূত্রে বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে আসছে। 

তিনি বলেন, এই যে একটা জাতিকে বিভাজন করার কারণে দেশ বারবার হোঁচট খেয়েছে, বারবার উন্নয়নে বাধাগ্রস্ত হয়ে পিছিয়ে পড়ছে। আমাদের দেশের উন্নয়ন করতে হলে এই বিভক্তি দূর করতে হবে। বিভক্ত জাতি নিয়ে কোনো দেশ বেশি দূর এগোতে পারে না। 

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আজ আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের জাতির মানুষের মধ্যে নীতি, নৈতিকতা ও সততার সংকট। প্রত্যেকটা সেক্টরে আজকে মানুষের যে অসততা দেখি,অনৈতিকতা দেখি, এ রকম অসততা নিয়ে একটা দেশ খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। আজকে বাংলাদেশ দেখেন বাংলাদেশ প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ। এই অসুস্থ মানুষের মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ কিডনি রোগী। বাকি ২৫ ভাগ মানুষ ক্যানসারের রোগী। এর একটাই কারণ হচ্ছে আমাদের নীতিহীন,  অসততা, অনৈতিকতার মানসিকতা। আমরা খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছি। মাছে ফরমালিন দিচ্ছি। এসব করে একে অপরকে ঠকাচ্ছি। 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, আজকের দেখুন নৈতিকতা কোন পর্যায়ে চলে গেছে। বিভিন্ন সময় কথা আসে, দুর্নীতির কথা আসে। বালিশ কিনতে গিয়ে দুর্নীতির কথা আসে। অবাক হতে হয়, যখন দেখি একটি সরকারি দপ্তরের ক্রয় নিয়ে দুর্নীতির কথা আসে। ইলেকট্রনিকস জিনিস যার দাম ৭'শ থেকে দেড় হাজার টাকা। বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করে। আবার তা উত্তোলনের জন্য ২ হাজার, তিন হাজার টাকা চার্জ কাটা হয়। নৈতিকতার কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারীরা অনেক দূর এগিয়ে গেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেতা নারী, স্পিকার নারী, উপনেতা নারী। এখন শুধু বাকি আছে রাষ্ট্রপতি পদটা। সেটাও দাবি করছেন আজকের নারীরা।

তিনি বলেন, গ্রামগঞ্জে নারীরা আজ নানা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সফল হচ্ছেন। স্থানীয় সরকারের নেতৃত্বে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা নেতৃত্বে আসছেন। এসব শেখ হাসিনার অবদান।

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি ড. সুলতানা সফির সভাপতিত্বে সেমিনার আরো বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত