ভারত নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরের প্রভাবশালী স্বাধীনতাকামী নেতা জাকির মুসাকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তাকে হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয় জনগণ বিক্ষোভ করছে।
বিবিসি জানায়, জাকির মুসা কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আনসার গাজওয়াত-তুল-হিন্দের প্রধান ছিলেন। সংগঠনটিকে আল কায়েদার কাশ্মীর সেল হিসাবে ধারণা করা হয়। ফলে ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী’ হিসাবে দেখা হতো।
ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, রাতে ফাঁদ পেতে দক্ষিণ কাশ্মীরের একটি বাড়িতে জাকির মুসাকে আটকে ফেলা হয়। সেখানেই হত্যা করা হয় তাকে।
এ অভিযানের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই এলাকায় জারি করা কারফিউ। পরদিন শুক্রবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
জাকির মুসার পুরো নাম জাকির রশিদ ভাট, তিনি ছিলেন কাশ্মীরের জনপ্রিয় স্বাধীনতাকামী তরুণ নেতা বুরহান ওয়ানির ঘনিষ্ঠ সঙ্গী। ২০১৬ সালে বুরহান ওয়ানিকে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী হত্যা করে। সেই ঘটনায় পুরো কাশ্মীরে সাধারণ জনগণ বিক্ষোভ সৃষ্টি করে। যাতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ১০০ জনেরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, জাকির মুসাকে হত্যা করা ভারতের জন্য বড় বিজয়।
বিবিসি জানায়, এদিকে জাকির মুসার হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষ ফুঁসে উঠেছে। সকাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষ চলছে।
জাকিরের হত্যার সংবাদ শুনে অনেক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং তার নামে স্লোগান দিতে থাকে। নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়ির দিকে পাথর ছুড়ে মারলে পুলিশ পাল্টা টিয়ার গ্যাস এবং প্যালেট বন্দুক ছুড়ে। তবে এখনো কোনো ধরনের হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।
