ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। ফলে আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিরোধী দল কংগ্রেস জোটের বাইরে মাত্র ৫২টি আসন পাওয়ায় এবারও লোকসভা দ্বিতীয়বারের মতো বিরোধীদলীয় নেতা পাচ্ছে না।
৫৪২ আসনের লোকসভায় বিরোধী নেতা নির্বাচন করতে হলে কোনো দলের অন্তত ৫৫টি আসন থাকা দরকার। সেই হিসাবে কংগ্রেস থেকে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনে আরও ৩ আসনের দরকার হলেও তা সম্ভবত পাচ্ছে না দলটি।
ভারতে বিরোধীদলীয় নেতা একটি সাংবিধানিক নিয়োগ। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কমিশন, কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন, ন্যাশনাল হিউম্যান রাইট কমিশন এবং ন্যাশনাল জুডিশিয়াল নিয়োগ কমিশনের অংশ এই বিরোধীদলীয় নেতা। পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় নেতা নিয়োগ পেতে হলে পার্লামেন্টে অন্তত ১০ শতাংশ বা ৫৫টি আসন থাকতে হয়।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী কোনো দলই ওই সংখ্যক আসন পাচ্ছে না। ৫২টি আসন পেয়ে কংগ্রেসই বৃহত্তম বিরোধী দল হতে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে বিজেপি পেয়েছিল ২৮২ আসন। মিত্রদের নিয়ে তাদের আসন দাঁড়ায় ৩৩৬। সেবার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করে ভারতের সবচেয়ে পুরনো দল কংগ্রেস।
জওহরলাল নেহরু ও রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়ে পার্লামেন্টে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন না। ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় কংগ্রেস পেয়েছিল ৪০৪ আসন। প্রয়োজনের চেয়ে তিন আসন কম পেয়েও তখন বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান। ২০১৪ সালে ৪৪ আসনে জয় পেয়ে বিরোধী দলীয় নেতার পদ দাবি করতে টিডিপির উদাহরণ হাজির করেছিল কংগ্রেস। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন স্পিকার।
লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা না থাকলেও পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ৬৭ প্রতিনিধি নিয়ে বিরোধী দলে ছিল কংগ্রেস। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ ছিলেন রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা আর বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি ছিলেন রাজসভার নেতা। ২০০৯ সালের পার্লামেন্ট রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন অরুণ জেটলি।
