নরসিংদীতে পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

দারিদ্র্যের কারণে দুই সন্তানকে হত্যা করেন বাবা

আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ১০:৪১ পিএম

আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সন্তানদের ভরণপোষণ ঠিকমতো দিতে না পাড়ার যন্ত্রণা থেকেই নরসিংদীতে দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বাবা। আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করে এমন দাবি করেছেন নিহতদের বাবা শফিকুল ইসলাম। গতকাল শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ। তবে শফিকুলকে মানসিক ভারসাম্যহীনও বলছে পুলিশ।

নিহতরা হলো মনোহরদী উপজেলার চালাকচর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে তাইন আক্তার (১১) ও তাইবা আক্তার (৪)। আটক শফিকুল ইসলাম একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত। তবে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করা, নিরাপত্তা প্রহরীর দারিদ্র্য ও ঘটনার বর্ণনায় অসংলগ্ন তথ্যে হত্যার রহস্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় নরসিংদী পৌর শহরের লঞ্চ টার্মিনালের টয়লেট থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পুলিশ। ওই রাতেই নিহতদের বাবা শফিকুল ইসলামকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফিকুল ইসলাম পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশ সুপারের ভাষ্যমতে, মনোহরদীর চালাকচরের গ্রামের বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে শিবপুর নিয়ে আসেন বাবা শফিকুল ইসলাম। চিকিৎসক না থাকায় তিনি সন্তানদের নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরতে নিয়ে আসেন। ওই সময় ছোট মেয়ে তার কাছে লিচু খেতে চান। কিন্তু তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না। তার ওপর সামনে ঈদ। সংসারের খরচ ও সন্তানদের ঈদের জামা কাপড় দিতে হবে। এসব ভেবে শফিকুল হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যান। পরে প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুমে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে বড় মেয়েকে একই কায়দায় হত্যা করে দুজনের লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

তবে, চালাকচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল মান্নান মুক্তু বলেন, ‘শফিকুল ইসলামের বাবা-মা শিক্ষক ছিলেন। তাদের সংসারে অভাব-অনটন ছিলÑ এমন কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। কী কারণে কেন নিজের দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন, তা আমরা ভেবে পাচ্ছি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত