লক্ষীপুরে ছিনতাইকৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্য। এসময় উত্তেজিত জনতা তাদের আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
রোববার রাত ১০টায় সদর উপজেলার মান্দারী পূর্ব বাজার থেকে ছিনতাইকৃত সিএনজিসহ তিন ছিনতাইকারীকে স্থানীয় এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় আটক করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন- লক্ষীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে শামছুল আলম (৩৮), একই এলাকার নুরুল হুদার ছেলে ফয়সাল (৩২) ও চরচামিতা গ্রামের মৃত ইউসূফের ছেলে জাকির হোসেন (৩৫)। তারা সিএনজি ছিনতাই ও মাদক কারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার বিকেলে মান্দারী ইউনিয়নের মটবী এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা মাত্র ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করতে এসে ধরা পড়েন ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য শামছুল আলম। পরে কৌশলে তাকে দিয়ে চক্রের অন্য সদস্যদের ডেকে আনা হয়, সিএনজি বিক্রির টাকার ভাগ নেওয়ার জন্য।
টাকার ভাগ নিতে এসে ফয়সাল ও জাকির ধরা পড়ে এলাকাবাসীর কাছে। এসময় মিঠু নামে এক ব্যবসায়ীর মাথায় জখম করে পালিয়ে যায় সম্রাট নামে চক্রের আরও এক সদস্য।
এরপর উত্তেজিত জনতা আটককৃতদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
ছিনতাইকৃত অটোরিকশার মালিক নোয়াখালীর অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তার সিএনজি অটোরিকশাটি (নোয়াখালী-ট: ১২-২২৬৮) ছিনতাই হয়। ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা যাত্রী সেজে নোয়াখালীর একলাশপুর থেকে সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে লক্ষীপুর সদর উপজেলার চরচামিতা এলাকায় আসে। পরে সিএনজি চালক সোলাইমানকে মারধর করে সিএনজিটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরদিন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় বলেও জানান তিনি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে সদর উপজেলার মান্দারী পূর্ব বাজার থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়। আটককৃতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর থানায় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
