মেরকেলের সতর্কবার্তা

আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ১১:১৪ পিএম

জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মূলধারার সমর্থন পাওয়া অশুভ শক্তির মোকাবিলায় নিজ দেশে কাজ আরও বাকি আছে বলে মন্তব্য করেছেন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। সিএনএনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক প্রধান উপস্থাপক ক্রিস্টিয়ান আমানপুরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে ইউরোপজুড়ে নির্বাচন, কট্টর ডানপন্থিদের তৎপরতা, ইহুদিবিদ্বেষ, অভিবাসী সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন জার্মান চ্যান্সেলর।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পার্লামেন্ট নির্বাচনের একদিন পর অপশক্তির বিষয়ে মেরকেল বলেন, ‘জার্মানিতে সুস্পষ্টভাবে এগুলোকে নির্দিষ্ট বাস্তবতা ও আমাদের অতীতের আলোকে দেখতে হবে; যার মানে দাঁড়াচ্ছে, অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে আমাদের।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতীতের ভূত সামলাতে হবে আমাদের। ইতিহাস আমাদের ও অন্যদের জন্য কী নিয়ে এসেছে, তা আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে জানাতে হবে।’

জার্মানিতে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরকারের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা ইহুদিদের জনসমক্ষে কিপ্পাহ (এক ধরনের টুপি) না পরতে সতর্ক করেছেন। ইহুদিবিদ্বেষের বিষয়টি তুলে ধরে মেরকেল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে জার্মানিতে সবসময় নির্দিষ্টসংখ্যক ইহুদিবিদ্বেষী ছিল। তিনি বলেন, পরিবর্তিত বাস্তবতায় জার্মানিতে প্রতিটি সিনাগগ, ইহুদি শিশুদের দিবাযতœ কেন্দ্র ও স্কুলে পুলিশকে পাহারা দিতে হচ্ছে। ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে জার্মানির চ্যান্সেলর মেরকেল। ক্ষমতাকালের দিক থেকে বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক নেতাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি কট্টর ডানপন্থার উত্থানের জন্য ইউরোপের জনপ্রিয়তাকেন্দ্রিক রাজনীতিকে দায়ী করেন। আবার কেউ কেউ অল্টারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) মতো মুসলিমবিদ্বেষী কট্টর ডানপন্থি সংগঠনের উত্থানে মেরকেলের অভিবাসী সংকট সামলানোকে দায়ী করেন। কিন্তু মেরকেল প্রায় ১০ লাখ শরণার্থীকে জার্মানিতে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সিরিয়া ও ইরাকের মতো দেশগুলোতে মানবিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে অভিবাসী ব্যবস্থাপনায় ‘একে অন্যের দ্বার বন্ধ করা’ সমাধান নয়। এসব দেশ থেকে পালিয়ে ইউরোপে আসা শরণার্থীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে।

ইইউ পার্লামেন্টে কট্টর ডানপন্থিদের জয়জয়কারের যে শঙ্কা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত হয়নি ইইউপন্থি পরিবেশবাদী ও উদারপন্থি দলগুলোর প্রতি সমর্থন ও নির্বাচনে ভোট প্রয়োগের হার বাড়ায়। আঞ্চলিক ভোটে জার্মানিতে পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টি মেরকেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) পরে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।

বিগত ইউরোপীয় নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার অনেক মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন জার্মান চ্যান্সেলর। ভোটে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা পরিবেশবাদী দলগুলোকে নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে লোকজন যেসব বিষয় নিয়ে আগ্রহী, তাদের সেসব নিয়ে কাজ করতে হবে। ওই সময় নিজ দল সিডিইউর কাজও একই বলে মত দেন তিনি।

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার জন্য সমালোচনার শিকার হয়েছেন মেরকেল। জার্মানির শিল্পসংশ্লিষ্টদের চাপে নতজানু হয়ে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। যদিও সবুজ ও স্বচ্ছ জ্বালানি উদ্যোগে সমর্থনের জন্য ‘ক্লাইমেট (জলবায়ু) চ্যান্সেলর’ আখ্যা পেয়েছেন তিনি।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত