নুসরাত হত্যা: চার্জশিটে ওসি মোয়াজ্জেম না থাকায় ক্ষোভ

আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ১১:০৮ পিএম

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার চার্জশিটে সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মেয়াজ্জেম হোসেন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও তার আইনজীবী।

বুধবার দুপরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেছে পিবিআই।

বাদী পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাহান সাজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান তার দায়েরকৃত এজাহারে ৮ জনের নাম দিয়েছেন। এ মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জনকে রেখে ৫জনকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। বাদ দেয়া ৫ জন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছেন কিনা বা তাদের ব্যাপারে বাদীর কোন আপত্তি আছে কিনা, তা আলাপ করে আদালতে না রাজি দেয়া হবে।

শাজাহান সাজু বলেন, ৩০ মে এ মামলার ধার্য তারিখ। এ দিনে আসামিসহ বাদী উপস্থিত থাকবেন। তখন আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। এ মামলায় ৮০৮ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। চার্জশিটে বাদীর দেয়া সাক্ষীর নামগুলো আছে কিনা তা দেখবেন। আদালতে ১৬৪ ধারায় ৭ জন সাক্ষীর দেয়া সাক্ষ্যে বাদ দেয়া ৫ জনের কারও নাম আছে কিনা তাও দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, ধারা অনুযায়ী মামলাটির বিচারকাজ চলবে নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে। সে ক্ষেত্রে আমলি আদালত থেকে মামলাটি ওই ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। এরপর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের ওপর শুনানি হবে।

পিবিআইয়ের দেয়া চার্জশিটে ওসি মোয়াজ্জেমের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মামলার বাদী পক্ষের এ আইনজীবী। তিনি বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালান তিনি। কিন্তু তাকে আসামি করা হয়নি।

এদিকে মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম নুসরাত হত্যাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন। কিন্তু তাকে চার্জশিটে রাখা হয়নি। এ ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার হতবাক হয়েছি। পিবিআইয়ের চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে না রাজি দেবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চার্জশিট দেখে ও আইনজীবীদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা যায় নুসরাত জাহান রাফি।

এ ঘটনা তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত ৮ আসামিসহ এখন পর্যন্ত ২১জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও পিবিআই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত