বাবা-ছেলের মারামারিতে বাবা নিহত, ছেলে আহত

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ০২:৫৩ পিএম

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ছেলের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন আনোয়ার হোসেন (৫০) নামে এক বিএনপি নেতা। আর বাবার ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন ছেলে রনি আহম্মেদ (২৮)। 

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় নন্দীগ্রাম পৌর এলাকার পূর্বপাড়ায়। পরিবহনের টাকার হিসাব-নিকাশ নিয়ে এই মারামারির ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।

এলাকাবাসী জানান, আনোয়ার হোসেন কয়েক বছর আগে তার ছেলে রনিকে হিউম্যান হলার (চার চাকার যান লেগুনা) কিনে দেন। রনি নিজেই ওই হিউম্যান হলার চালাতেন। বেশ কয়েক মাস ধরে রনি সেই পরিবহনের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব বাবাকে দেয়নি। এ নিয়ে বাবা ও ছেলের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ওই পরিবহনের টাকার হিসাব নিয়ে বাড়িতে বাবা-ছেলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বাবা-ছেলের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। ছেলে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে বাবার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে তিনি ওই ছুরি দিয়ে বাবার পেটে আঘাত করলে তার বাবা ছুরিটি কেড়ে নিয়ে ছেলেকে আঘাত করে। পরে ছেলে সেটি আবারও কেড়ে নিয়ে উপর্যুপরি বাবাকে আঘাত করলে দু’জনই গুরুতর আহত হন।

প্রতিবেশীরা বাবা-ছেলের চিৎকার ও আর্তনাদে এগিয়ে গিয়ে তাদের উভয়কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর একটার দিকে আনোয়ার হোসেন মারা যান। ছেলে রনির অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

যোগাযোগ করা হলে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত কবির বলেন, “বাবা-ছেলের ঝগড়া চলাকালে একে অপরকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে এলাকাবাসী বিষয়টি থানায় অবহিত করেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি হাসপাতালে আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন। নিহত আনোয়ারের লাশ ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”

ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। চিকিৎসাধীন ছেলে এখন পুলিশ নজরদারিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত