অনেক কারণেই যাত্রাপথে বমি হতে পারে। যেমন কেউ ভীষণ অসুস্থ হলে, বিষাক্ত কিছু খেলে, বাজে গন্ধ বা বাজে স্বাদের খাবারের কারণে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে বা কোনো কারণে খাদ্যনালি বন্ধ হয়ে গেলেও বমি হতে পারে। অতিরিক্ত পরিশ্রম বা মোশন সিকনেসের কারণেও বমি হতে পারে। তবে মোশন সিকনেস ভ্রমণের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। এক ধরনের মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে এটা হতে পারে। বিশেষ করে বাস, প্রাইভেট কার বা ইঞ্জিনচালিত এ ধরনের বাহনগুলোতে বমির সমস্যা হতে পারে। অন্তঃকর্ণ আমাদের শরীরের গতি ও জড়তার ভারসাম্য রক্ষা করে। যখন গাড়িতে চড়ি তখন অন্তঃকর্ণ মস্তিষ্কে খবর পাঠায় যে সে গতিশীল। কিন্তু চোখ বলে ভিন্ন কথা। কারণ তার সামনের বা পাশের মানুষগুলো কিংবা গাড়ির সিটগুলো থাকে স্থির। চোখ আর অন্তঃকর্ণের এই সমন্বয়হীনতার ফলে তৈরি হয় মোশন সিকনেস। এ কারণে তৈরি হয় বমি বমিভাব, সেই সঙ্গে মাথা ঘোরা, মাথা ধরা প্রভৃতি।
প্রতিকার
ভ্রমণের সময় জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকলে সমস্যা কিছুটা কম হয়। সামনের দিকের সিটে বসার চেষ্টা করুন। এ সময় খোলা জানালা দিয়ে লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে পারেন।
বমি ভাব দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর ভেষজ ওষুধ আদা। আদা কুচি করে কেটে মুখে নিয়ে চিবুতে পারেন। এতে করে আপনার বমি ভাবটি দূর হয়ে যাবে। যারা আদার ঝাঁজ সহ্য করতে পারেন না, তারা একটু গরম পানিতে আদা সেদ্ধ রসটি মুখে নিয়ে কুলি করলে মুখ থেকে বমির বিচ্ছিরি গন্ধও দূর হয়ে যাবে।
যখনই বমিভাব দেখবেন তখনই মুখে এক টুকরা লবঙ্গ রেখে দিন। ধীরে ধীরে চিবুতে থাকুন দেখবেন আপনার মুখ থেকে বমিভাব চলে গিয়েছে।
পুদিনাপাতা বমিভাব দূর করতে দারুণ কার্যকর। পুদিনার রস গ্যাস্ট্রিকজনিত বমিভাব দূর করতে বেশি কার্যকর। তাই গ্যাস্ট্রিকজনিত বমিভাবে পুদিনাপাতা মুখে দিয়ে চিবুতে থাকুন।
অনেকেই দারুচিনি চিবুতে পছন্দ করেন। দারুচিনি ভারী খাবারের পর খেলে হজমে খুব সাহায্য করে। তাই হজমের সমস্যাজনিত কারণে বমিভাব হলে খেতে পারেন এক টুকরা দারুচিনি।
টক জাতীয় খাবারের ফলে শরীরের বমিভাব দূর হয়। লেবুর রসে রয়েছে সাইট্রিক এসিড যা বমিভাব দূর করতে বেশ কার্যকর। কিন্তু গ্যাস্ট্রিকজনিত বমিভাব হলে লেবু না খাওয়াই ভালো। তা ছাড়া বমিভাব হলে লেবুপাতার গন্ধ উপকারে আসতে পারে। কারণ লেবুর পাতা শুঁকলে বমিভাব দূর হয়।
জানালার কাছে সিট নিন। জানালাটা খুলে দিন। খোলা বাতাসে মনপ্রাণ থাকবে চনমনে। গাড়িতে আড়াআড়ি বা যেদিকে গাড়ি চলছে সেদিক পেছন দিয়ে বসবেন না।
যাত্রা শুরুর একটু আগে ভরপেট খাবেন না বা পান করবেন না। খাবার খেতেও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে এসিডিটি হতে পারে, এ ধরনের খাবার খাওয়া যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে পোলাও-বিরিয়ানি-খিচুড়ি, বার্গার-পিজা-বাইরের ভাজাপোড়া খাবার।
সুপারি বা শুধু পান কিংবা চুইংগাম চিবানোতেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
মধু, পুদিনাপাতা দিয়ে শরবত করে খেলে বমিভাব কেটে যাবে। কমলা বিট লবণ লাগিয়ে খেলে বমিভাব, গা গোলানো কমবে।