ট্রাকেরও খাচ্ছে, বাসেরটাও কুড়াচ্ছে পুলিশ! (ভিডিও)

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৯, ১০:২৬ পিএম

ঈদ সামনে রেখে শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের লোকজন যখন নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন সোমবার।

পরিবহন সংকটের সুযোগ নিয়ে বাস এবং ট্রাক উভয় পরিবহন থেকে চাঁদা নিচ্ছে পুলিশ।

যাত্রীদের অসহায় মুহূর্তের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও। কয়েক গুন বেশি ভাড়া আদায় করছেন তারা।

তবে পরিবহনের চালক ও কাউন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ভাড়া বৃদ্ধির জন্য উল্টো সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ ও সোর্সদেরই দায়ী করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে সোমবার বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, হেমায়েতপুর লালন টাওয়ারের সামনে অবস্থিত পুলিশ বক্সে বসে আছেন ট্রাফিক ইনসপেক্টর (টিআই) আবেদ হোসেন এবং সাভার চামড়া শিল্প নগরীর পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ গোলাম নবী শেখ।

আর রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের উপপরিদর্শক রফিক, কনস্টেবল মো. হাসান, সবুজ, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য রিয়াজ ও তাদের ভাড়াটে চাঁদা উত্তোলনকারী দলের সদস্যরা।

দেখা গেছে, যাত্রী পরিবহনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি ট্রাক থেকে দুই হাজার করে টাকা আদায় করছে পুলিশ। এর মধ্যে যে বা পার্ক করে যাত্রী ওঠাচ্ছে তাদের কাছ থেকে পুলিশ নিচ্ছে পনেরো শ টাকা।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রিয়াজ নামে কমিউনিটি পুলিশের এক সদস্য দালালের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। প্রথমে এক হাজার টাকা থেকে দর-কষাকষি করে শেষ পর্যন্ত পনেরো শ টাকা নেয় রিয়াজ। এ সময় পুলিশের এসআই রফিক ও কনস্টেবল সবুজ দাঁড়িয়ে থেকে টাকা নেয়ায় সহযোগিতা করেন।

দিনাজপুরগামী একটি ট্রাকের চালক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমি ট্রিপ নিয়ে গাবতলীতে আসছিলাম রোববার। সোমবার ফেরার পথে রাস্তায় অনেক যাত্রী দেখে নিজেদের গ্রামের মানুষগুলোকে সহযোগিতার জন্য গাড়ি দাঁড় করাই। এ সময় একজন এসে জানতে চায় গাড়ি কোথায় যাবে। আমি দিনাজপুর বলার সঙ্গে সঙ্গে সে বলে, পাঁচ শ টাকা করে যাত্রী তুলে দেব। আমাকে এবং পুলিশের জন্য পার্কিং খরচ দুই হাজার টাকা দিতে হবে। আমি রাজি হয়ে গেলে তারা কয়েকজন মিলে আমার গাড়িতে যাত্রী তুলে দেয়’।

স্থানীয় লালন টাওয়ারের উত্তরবঙ্গগামী বাস কাউন্টারে কর্তব্যরত মনির হোসেন বলেন, যানজটের দোহাই দিয়ে আমাদের বিভিন্ন পরিবহনের গাড়ি রাস্তায় দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠাতে বাধা দেয় পুলিশ। পরে প্রতিটি কাউন্টার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়ে যাত্রী ওঠানোর অনুমতি দেওয়া তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাভার চামড়া শিল্প নগরীর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ গোলাম নবী শেখ বলেন, আমি বা আমার কোনো লোক কোনো বাস কাউন্টার থেকে টাকা নিইনি। এটা ট্রাফিক পুলিশ নিয়ে থাকতে পারে। আপনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তার কথামতো হেমায়েতপুর সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থিত ট্রাফিক বক্সে গিয়ে দেখা যায় এখানকার দায়িত্বরত টিআই আবেদ হোসেন ভেতরের কক্ষে শুয়ে ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ বসে থাকার পর কমিউনিটি পুলিশ সদস্য রিয়াজ আসেন তার কক্ষে।

এ সময় তার সহযোগিতা নিয়ে শুয়ে থাকা টিআই’র কাছে পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে না। সড়কে কর্মরত কিছু ছেলেপেলে আছে, ওরা বিভিন্ন গাড়ি থেকে ১০-২০ টাকা করে নিয়ে থাকে।

আপনার ছবি দেখিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ‘মাথা ব্যথার’ দোহাই দিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত