বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, একাত্তরে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান এবং সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে।
সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
রিজভী বলেন, 'আওয়ামী ম্যানুফ্যাকচার্ড ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেই লেখক কিংবা ইতিহাসবিদকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। বই প্রকাশের পাঁচ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধানকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে, সেটি জনগণের কাছে খুবই পরিষ্কার'।
তিনি বলেন, বিগত দিনেও কখনো আদালতকে ব্যবহার করে, আবার কখনো গোয়েন্দাদের ব্যবহার করে কবি, সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক, জীবনী লেখক, ইতিহাসবিদদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে লিখিত গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায় পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে'।
তিনি বলেন, জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে কীভাবে? গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, বরেণ্য আইনজীবী কেউ নিম্ন আদালত থেকে জামিন পান না। সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিম্ন আদালত থেকে কীভাবে ভয়ংকর জঙ্গি হামলায় জড়িত জঙ্গিরা জামিন পাচ্ছে?
বিএনপির এই নেতা বলেন, আসন্ন রমজানের ঈদ সবচেয়ে বেদনাদায়ক হবে। কারণ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে অবৈধ ক্ষমতার জোরে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। সারা দেশের সব কারাগারে বিএনপিসহ সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীতে ঠাসা। শুধু তাই নয়, কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়নি। এভাবে দেশের কোনো শ্রেণি পেশার মানুষ স্বস্তিতে নেই।
রিজভী অভিযোগ করেন, এমপিওভুক্ত স্কুল-মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক এখনো বেতন-বোনাস পাননি। তাদের মনেও ঈদের আনন্দ নেই। বিদেশ থেকে অনেক প্রবাসীর টাকা আসত বাংলাদেশে, এখন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এবং অন্যান্য দেশে কাজ না থাকায় অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দেশে কোটি কোটি যুবক বেকার। তাদের কোনো কাজ নেই, আয়ও নেই। তাদের ঘরেও ঈদের আনন্দ নেই।
তিনি বলেন. শেয়ারবাজার বারবার ধ্বংসের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুঁজিসহ সব নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই। বিএনপিসহ বিরোধী দলের ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রয়েছে। তারা বাড়িছাড়া, ঘরছাড়া অথবা কারাগারে। তাদের ঘরেও ঈদ আনন্দ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম।
