পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৯, ০১:৩১ এএম

বিশ্বকাপে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াল পাকিস্তান। অবিশ্বাস্য ভাবে!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাজে হারের পর পাকিস্তানের বিশ্বকাপ যাত্রা বন্ধুরই দেখছিলেন সবাই। যদিও ১৯৯২ বিশ্বকাপকে প্রেরণা মানছিল সরফরাজ আহমেদের দল। আনপ্রেডিক্টেবল পাকিস্তান নিজেদের নামের সার্থকতা প্রমাণ করেই দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরে এল দারুণভাবে। হট ফেভারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জানান দিল, তারাও গোনার বাইরে নয়।

সোমবার নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডকে ১৪ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে মাত্র মাত্র ১০৫ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল তারা। হেরেছিল ৭ উইকেটে।

আর ইংল্যান্ড উদ্বোধনী ম্যাচেই দুর্দান্ত জয়ে জানান দেয় বিশ্বকাপের সেরা দাবিদার তারাই। পাকিস্তান সেই দলটাকে হারিয়ে যেন প্রমাণ দিল এবারের বিশ্বকাপে আসলে ফেভারিট বলে কেউ নেই।

উইন্ডিজের বিপক্ষে হারের পর পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ অবশ্য পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু সরফরাজের কথায় আসলে কেই বা আস্থা রেখেছিল!

টানা ১১ ওয়ানডে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল পাকিস্তান। উইন্ডিজের কাছে হেরে সংখ্যাটা হয়ে যায় ১২। অপয়া ১৩ চোখ রাঙাচ্ছিল তাদের। পাকিস্তান সেই অপয়া সংখ্যাকে নিজেদের ওপর ভর করতে দেয়নি। তবে কি শুরু হলো পাকিস্তানের নক আউট পাঞ্চ!

সাম্প্রতিক ফর্ম যাই হোক, ইংল্যান্ডের মাটি বরাবরই পাকিস্তানকে সুখস্মৃতি উপহার দিয়েছে। ২০১৭ সালে এই ইংল্যান্ড থেকেই আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয় করে ফিরেছিল ইংলিশরা। দুই বছর আগের সেই স্মৃতিই এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের জন্য বড় প্রেরণা।

প্রেরণা এখন থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এদিনের ম্যাচও। গ্রুপ পর্বে বাকি সাত ম্যাচে নিশ্চিত ভাবেই পাকিস্তানকে যা আত্মবিশ্বাসী করবে।

এদিন পাকিস্তানের ব্যাটিংটা হয়েছে দুর্দান্ত। মোহাম্মদ হাফিজ তার অভিজ্ঞতা উজাড় করে দিয়েছেন। খেলেছেন ৮৪ রানের ইনিংস। বল হাতে পরে ১ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরাও।

সরফরাজ আহমেদ ৫৫ রান করেছেন। বাবর আজম খেলেন ৬৩ রানের ইনিংস। দুই ওপেনার ফখর জামান ও ইমাম-উল-হক উদ্বোধনী জুটিতে গড়ে দিয়েছিলেন দারুণ ভিত। যদিও ফিফটি পাননি তারা।

এরপর বোলিংয়ে দারুণভাবে ফিরে আসার গল্প লিখেছে পাকিস্তান। সঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে দেখা গেছে ওয়াহাব রিয়াজকে। শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ খেলার টিকিট পাওয়া এই পেসার নিয়েছেন সর্বাধিক ৩ উইকেট। ৪৮তম ওভারে তার পর পর দুই উইকেটই আসলে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তানের।

১৯৯২ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড থেকে ট্রফি নিয়ে ফিরেছিল পাকিস্তান। এবারো কি তবে সেরকম কিছু হবে? এবারের আসর হচ্ছে ১৯৯২ বিশ্বকাপ ফরম্যাটে। যে ফরম্যাটে আসলে নির্দিষ্ট কোনো দলকে ফেভারিট বলার উপায় নেই।

তবে পাকিস্তান টানা হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের উপস্থিতির কথা এদিন জানিয়ে দিয়ে গেল প্রবলভাবে। দেখার বিষয়, বাকি পথে তারা এই ধারাবাহিতা রেখে রাখতে পারে কিনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত