রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি শিল্পী বেগম (৪৫) ও তার ভাগনে সেতুকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার সদরের খানখানাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শিল্পী বেগম পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়ার প্রবাসী জাহাঙ্গীরের স্ত্রী। সেতু ওই গ্রামের বাবলুর ছেলে। সে এ মামলার প্রধান আসামি শিল্পী বেগমের বোনের ছেলে। এলাকাবাসী জানিয়েছে, শিল্পী বেগমের সঙ্গে রাজু ও তার সহযোগীদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।
রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি সাংবাদিকদের জানান, মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ও অপর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।
তিনি জানান, অব্যাহত পুলিশি অভিযানের কারণে রবিবার সকালেই ঘটনার মূল হোতা ও তার ভাগনেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা সম্পর্কে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে তাদের আদালতে প্রেরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রথমে দগ্ধ মেয়েটির পরিবার লোক লজ্জার ভয়ে কিছুটা চেপে গেলেও থানা-পুলিশ জানার পর ত্বরিত গতিতে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি জানান, মামলা দায়েরের পরপরই শিল্পী বেগমসহ অন্যরা গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দেয়। রাতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে হানা দেয়। সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়ালন্দ মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনার আরেক হোতা ভান্ডারিয়া গ্রামের মেহেরুল্লার পুত্র রাজু। সে প্রায়ই ওই মেয়েটিকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে উত্ত্যক্ত করত। শিল্পী বেগমের সহায়তায় ওই মেয়েটির আপত্তিকর কিছু ছবি তোলে রাজু, সেতু ও তার সহযোগীরা। আর এই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে তারা মেয়েটিকে পুড়িয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে।
এদিকে মামলায় অভিযুক্ত অজ্ঞাতনামা অপর তিনজন সম্পর্কে পুলিশ এখন কিছু জানাতে নারাজ। রাজবাড়ী থানার ওসি বলেন, গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকায় এ সম্পর্কে এখনই কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার পূর্বক নাম পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হবে এবং মামলার রহস্যও উদ্ঘাটিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন দুপুরে ওই স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে পাশের পাটখেতে নিয়ে মুখ ও হাত-পা বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে বোরকা পরা কয়েকজন দুর্বৃত্ত। এ সময় ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন টের পেয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শনিবার সকালে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় প্রতিবেশী শিল্পী বেগমের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
