টাকার জন্য দুই ভাই ও বন্ধু মিলে স্কুলের দপ্তরি মো. শফি উল্লাহকে (৫৫) খুন করেছে বলে আদালতের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান রাব্বি (১৯) নামের এক আসামি।
মঙ্গলবার বিকেলে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
আদালতে মেহেদী হাসান রাব্বি স্বীকার করে, মো. শফি উল্লাহর কাছে টাকা আছে জানত স্থানীয় ইয়াবা আসক্ত সোহেল। ওই টাকা লুট করে নিতে ছোট ভাই রনি ও তার বন্ধু মেহেদী হাসান রাব্বিকে ডেকে নেয়। ওই দিন রাতে সাড়ে নয়টার দিকে তারা গামছা ও পাঞ্জাবি দিয়ে ঘুমন্ত মো. শফি উল্লাহর চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তাকে খাট থেকে নিচে নামিয়ে সোহেল পা ও রনি বুক ও পেট চেপে ধরে টাকা কোথায় জানতে বারবার চাপ দেয়। টাকার কোথায় স্বীকার না করায় মেহেদী হাসান রাব্বি চায়ের চামচ দিয়ে মো. শফি উল্লাহর গলায় কয়েকটা ঘাই দেয়। পরে আলমারি থেকে ১ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার এসআই মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সোহেল, হৃদয় ও রাব্বি নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রাব্বি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তিতে সে রনিসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার সোহেলকে আগামী কাল আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।
এর আগে ৩০ মে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের গাজী ক্রসরোড এলাকার একটি বাসা থেকে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. শফি উল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাজধানী ঢাকা থেকে চিকিৎসা শেষে ওই দিন রাতে ফেনীতে এসে নিজের রুমে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। তিনি বিগত প্রায় চার বছর ধরে ওই স্কুলে দপ্তরির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ ঘটনায় ৩১ মে শুক্রবার নিহত শফি উল্লাহর ছেলে অবদুল মোতালেব বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।
