সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলায় নিয়ম ভেঙে স্কুলের সাড়ে তিন টন বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
নুরুজ্জামানের নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে থেকে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয়রা বইগুলো উদ্ধার করে।
স্থানীয় রুহুল আমিন, শেখ লাভলু ও ফয়সাল হোসেন বিদ্যুৎসহ অনেকে বলেন, রাত ৮টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার নুরুজ্জামান মৌতলা বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত বিশ্বজিতের ভাঙারি দোকানে প্রায় সাড়ে তিন টনের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির ২০১৯ ও ২০১৮ সালের বই বিক্রি করতে আসে।
স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ভ্যানভর্তি বইসহ ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করে তারা।
খবর পেয়ে মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরকারি বই কোথায় পেয়েছে জানতে চাইলে নুরুজ্জামান বলেন, শ্যামনগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বইগুলো কিনেছি।
খবর পেয়ে শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাঙারি ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বই বিক্রির সময় স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করে।
ওই ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, বইগুলো শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তার কাছ থেকে কিনেছে।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে এসে বইগুলো পরিদর্শন করে।বইগুলোর মধ্যে ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের বিভিন্ন শ্রেণীর বই আছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি পুরাতন বই বিক্রি করা হয়েছে, কিন্তু ওই সময় ব্যবসায়ী নুরুজ্জামানের কাছে কোনো বৈধ কাগজ না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের হেফাজতে বইগুলো রাখা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিক্রির কাগজ দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বইগুলো নিয়ে যান তিনি।
তিনি আরো বলেন, তিনটি ৬ষ্ঠ শ্রেণির ২০১৯ সালের বই ভুলে চলে গিয়েছিল।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, গত কয়েক দিন আগের একটি সভায় ২০১৫ সালের আগের পুরাতন বই বিক্রির বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের বই বিক্রি করেছে এ বিষয় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বুঝবে সেটা তার ব্যাপার।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আতাউল হক দোলন জানান, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো পরিদর্শন করেছেন। তিনি গিয়ে দেখেন সেখানে ২০১৬-২০১৯ সাল পর্যন্ত বই বিক্রি করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়ম বহির্ভূতভাবে।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভাঙারির দোকান থেকে বইগুলো উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। বইগুলো বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করছি। আমি নিজে উপস্থিত থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
