দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বিখ্যাত আশুলার বিলের ওপর নির্মিত আঁকাবাঁকা আকৃতির শাল কাঠের সেতু দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানের ভ্রমণপিপাসুরা। সেতুটির নাম রাখা হয়েছে ‘শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কাঠের সেতু’। দৈর্ঘ্য ৯০০ মিটার।
গত জুন দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক ও জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম সেতুটির উদ্বোধন করেন।
ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করতে উপজেলা প্রশাসন এটি নির্মাণ করেছে। সেতুটির দেখতে ইংরেজি বর্ণ জেড এর মতো। সেতুটির পশ্চিমে খটখটিয়া কৃষ্ণপুর ও পূর্বে নবাবগঞ্জ।
সেতুটি যেন নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান ও আশুলার বিলকে এক সুতোয় গেঁথেছে। বর্তমানে এটি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘতম কাঠের সেতু।
শাল কাঠে নির্মিত এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান ও আশুলার বিলের মনোরম পরিবেশ ও অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে নেমেছে হাজারো মানুষের ঢল। উদ্যানটি হয়ে উঠেছে সব বয়স, সব শ্রেণির মানুষের মিলন মেলা।
বিলের পানিতে নৌকায় করে ঘুরেছেন অনেকে। ভ্রমণপ্রেমীদের সাড়া পেয়ে বন ও বিলের পাশে বসেছে ফুচকা, চটপটি, আচার, আইসক্রিম, ঝাল-মুড়িসহ অর্ধশতাধিক বিভিন্ন ধরনের খাবার ও খেলনা সামগ্রীর দোকান।
নবাবগঞ্জ উপজেলার সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এই উদ্যানের অবস্থান।
পর্যটনের সম্ভাবনা থেকে ২০১০ সালে সরকার এই বন ও বিলকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। তবে অর্থ সংকটসহ নানান জটিলতায় তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকে এটি। সম্প্রতি বন ও বিলটির গুরুত্ব তুলে ধরতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মশিউর রহমান নেন একের পর এক উদ্যোগ। এর মধ্যে বনের পাশ দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা রোপণ, বিলের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জলাশয় থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করা ও পাখিদের অভয়াশ্রম হিসাবে গড়ে তোলার জন্য গাছে গেছে পাতিল লাগানো।
এ জাতীয় উদ্যানে শালবন, আশুলার বিল ছাড়াও রয়েছে সীতার কোট বিহার, বাল্মীকি মুনির থান। এদিকে পর্যটকদের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর দিনাজপুরের পক্ষ থেকে ল্যাট্রিন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাসহ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করেছেন উপজেলা প্রশাসন।
এই উদ্যানের প্রধান বৃক্ষ শাল ও সেগুন। এছাড়াও রয়েছে ইউক্যালিপটাস, গামার, কড়ই, জাম, আকাশমণি ও নানান শ্রেণির অর্কিড। বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে বনবিড়াল, বাংলা খ্যাঁকশিয়াল, নানান রকম সাপ, কীটপতঙ্গ।
এখানে ঘুরতে আসা ভ্রমণপ্রেমীরা বলছেন, সেতুটি দেখে অনেক ভালো লেগেছে। উদ্যানটিতে পর্যটকদের জন্য নানান সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে যেমন পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মশিউর রহমান জানান, ‘সেতুটি নির্মাণের পর এখানে মানুষের ঢল নেমেছে। প্রতিদিন হাজারো পর্যটক দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে আসছেন। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়াতে আরও নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আগতদের নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার লক্ষে সামান্য খরচে কাঠের আঁকাবাঁকা সেতুটি তৈরি করতে চেষ্টা করেছি।’
