স্কুলছাত্রদের বিক্ষোভে পিস্তল নিয়ে হামলা ঠিকাদারের

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ০৬:৫৫ পিএম

নড়াইল সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে ছাত্রদের মারধর ও পিস্তল নিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে।

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা নড়াইল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে প্রায় দুইঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে অবশ্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

জানা গেছে, গত শনিবার ভোরে নড়াইল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিক তার প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে পড়ানোর সময় ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা এরিনাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এতে ওই ছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে যান।  বিষয়টি ওই ছাত্রী তার বাবা ঠিকাদার মঈনউল্লাহ দুলুকে জানান।

অভিভাবক দুলু বলেন, ছাত্রছাত্রীদের গায়ে হাত তোলা নিষেধ হলেও ওই শিক্ষক আমার মেয়ের গায়ে হাত তুলেছে। আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসে জানালে তখন ওই শিক্ষককে ধরে নিয়ে থানায় দেওয়ার চেষ্টা করি। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে ওই শিক্ষককে মারধর করা হয়নি।

শিক্ষক প্রদেশ মল্লিক জানান, শনিবার সকালে তার ভাড়া বাসায় শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় সাপ্তাহিক পরীক্ষা নেয়ার সময় ঠিকাদার মো. মইনউল্লা দুলুর মেয়ে সানজিনা এরিনা খাতায় নাম না লিখে জমা দেয়, খাতায় নাম লেখোনি কেন, এ প্রশ্ন করলে সে খাতা আমার সামনে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং বাড়ি থেকে তার বাবাকে ডেকে নিয়ে আসে । তিনি এসে আমার সাথে শিক্ষার্থীদের সামনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়।

এদিকে এ ঘটনাটি নড়াইল জেলা প্রশাসক অবহিত হওয়ার পর রবিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কক্ষে এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে।

শিক্ষক ও অভিভাবককের মধ্য অপ্রীতিকর ঘটনা মীমাংসার বৈঠক চলাকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ওই বিদ্যালয়ের ছাত্ররা।  এসময় নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইয়ারুল ইসলাম ওই ছাত্রদের স্কুলে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ছাত্ররা অনুরোধ না মেনে শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী অভিভাবক মঈনউল্লাহ দুলুকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ জানান।

কয়েকজন ছাত্র জানান, শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী ঠিকাদার মঈনউল্লাহ দুলুকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলায় ওই ঠিকাদারের পক্ষের লোকজন তাদের (ছাত্রদের) ওপর হামলা করে। তখন রেজাউল আলম নামে একজন ঠিকাদার পকেট থেকে পিস্তল বের করে ছাত্রদের গুলি করার ভয় দেখায়।  তখন ছাত্ররা ভয়ে স্কুলের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নড়াইল-যশোর সড়কে বেঞ্চ দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় উভয়পাশে ঘন্টাব্যাপী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন (পিপিএম) বলেন, লাইসেন্সকৃত অস্ত্র নিয়ে এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোন সুযোগ নেই। ঘটনার পর ঠিকাদার রেজাউল আলমের পিস্তলটি থানায় জমা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ মামলা দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত