আদালতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই কড়া নিরাপত্তায় অনেকটা গোপনীয়তার সঙ্গে কায়রোতে তাকে দাফন করা হয়।
আলজাজিরা, আনাদলু ও রয়টার্স জানায়, কড়া নিরাপত্তায় পশ্চিম কায়রোর নেসার সিটিতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টায় দাফন করা হয়েছে।
মুসলিম ব্রাদারহুডের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের কবরের পাশে দাফন করা হয় দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্টকে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ তথ্য জানান, মুরসির ছেলে আহমদ মুরসি।
পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের দাবি জানানো হলেও তাদের দাবি মানেনি সরকার। নিজ শহর শারকিয়্যায় পারিবারিক কবরস্থানে মুরসির দাফন হোক এমনটাই চেয়েছিল পরিবার।
কারাগারে বিনা চিকিৎসায় রেখে মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঠেকে দিয়েছে মিসর সরকার- এমনটাই মত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর। তার পরিবার ও সংগঠনও একই দাবি করেছে।
মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারকের কাছে কথা বলার অনুমতি চাইলে তাকে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ সময় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং একপর্যায়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
আলজাজিরা জানায়, রাজধানী কায়রোর আদালতে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের সঙ্গে যোগসাজশ সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় মুরসি দীর্ঘ সময় বক্তব্য রাখছিলেন।
প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য রাখার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় মুরসিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, মুরসির মৃত্যু ‘ভয়াবহ’; কিন্তু এমনটাই ঘটবে সেটা আগ থেকেই অনুমেয় ছিল।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, তার মৃত্যুর দায় নিতে হবে মিসর সরকারকে। মুরসিকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে বা কারাগারে বন্দি অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
মৃত্যুর আগে প্রায় ছয় বছর দিনে ২৩ ঘণ্টা নির্জন সেলে কাটাতে হয়েছে মুরসিকে। শুধু দিনে এক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করার সুযোগ পেতেন তিনি। এর মধ্যে মাত্র তিনবার তার পরিবারের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পায়।
পরিবার ও মুসলিম ব্রাদারহুডের দাবি, বিনা চিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কারাগারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস, কিডনি ও লিভারজনিত অসুখে ভুগছিলেন যার যথাযথ চিকিৎসা তিনি পাননি।
