ইংল্যান্ডকে স্পিন দিয়ে ঘায়েল করতে চেয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ড যে কি ভয়ংকর সেটি বোধ হয় জানা ছিল না দলটির। ইয়ান মরগানের দলের সেই বিধ্বংসী রূপটা দেখল আফগানরা। যে ধ্বংসলীলায় অধিনায়ক মরগান নেতৃত্ব দিলেন সামনে থেকে। খেললেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের সেরা ইনিংস। ১৭ ছক্কা হাঁকিয়ে গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড। ইংল্যান্ড উঠল রানের চূড়ায়।
মঙ্গলবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৯৭ রানের স্কোর গড়ে ইংল্যান্ড। এবারের আসরে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। মরগান ৭১ বলে খেলেছেন ১৪৮ রানের ইনিংস। এ ছাড়া জনি বেয়ারস্টো ৯০ ও জো রুট ৮০ রান করেন।
মরগান যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই কথা বলেছে তার ব্যাট। ৩০তম ওভারে উইকেটে এসেছিলেন। ৭৭ মিনিট উইকেটে থেকে রীতিমতো সুনামি বইয়ে দিয়েছেন আফগান বোলারদের ওপর।
ইনজুরির কারণে আগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন জেসন রয়। তার পরিবর্তে জেমস ভিনস এসেছেন দলে। জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৪৪ রান যোগ করেন তিনি। দশম ওভারে ভিনস ফিরে যান দৌলত জাদরানের শিকার হয়ে। ৩১ বলে ৩ চারে ২৬ রান করেন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে বেয়ারস্টো জো রুটকে নিয়ে গড়ে তোলেন দারুণ এক জুটি। ১২০ রান যোগ করেন এই দুজন। বেয়ারস্টো সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ দূরে থেকে ফেরেন। গুলবাদিন নাইবের বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হওয়ার আগে ৯৯ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৯০ রান করেন তিনি।
এরপর চলেছে ইয়ান মরগান শো। আগের চার ম্যাচে মাত্র একটিতে ফিফটি করেছিলেন। আসরে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিতে আফগানিস্তানকেই বেছে নিলেন ইংলিশ অধিনায়ক। ৩৬ বলে নিজের অর্ধশতক পূরণ করার পর ৬৫ বলে পূরণ করেন সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপে যা চতুর্থ দ্রুততম সেঞ্চুরির কীর্তি।
মরগান একপ্রান্তে যখন তাণ্ডব চালাচ্ছেন, অন্যপ্রান্তে রুটও ছিলেন দারুণ। খেলেছেন ৮২ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৮৮ রানের ইনিংস। তৃতীয় উইকেটে মরগান-রুট জুটিতে আসে ১৮৯ রান।
রুট এবং মরগানকে একই ওভারে ফেরান গুলবাদিন নাইব। ৪৭তম ওভারের চতুর্থ বলে রুটকে রহমত শাহর হাতে ক্যাচ বানান। এরপর মরগানকেও রহমত শাহর হাতে ক্যাচে পরিণত করেছেন নাইব। মরগান ৭১ বলে ১৪৮ রান করেছেন। ১৭ ছক্কা ছাড়াও ৪টি চার ছিল তার ইনিংসে।
শেষ তিন ওভারে আরো দুই উইকেট হারিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে মইন আলির ৯ বলে ৩১ রানের ছোট্ট টর্নেডোতে চার শ ছোঁয়া স্কোর গড়ে ইংলিশরা। মইন ১টি চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা হাঁকান।
আফগানিস্তানের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন দৌলত জাদরান ও গুলবাদিন নাইব।
এ ম্যাচে লজ্জার এক রেকর্ড গড়েছেন রশিদ খান। ৯ ওভার বল করে ১১০ রান খরচ করেছেন। বিশ্বকাপে যা সবচেয়ে খরচে বোলিংয়ের রেকর্ড। ওয়ানডে ইতিহাসে খরুচে বোলিংয়ের তালিকায় যা তৃতীয়।
