বাংলাদেশের কীর্তি সামনের সব প্রতিপক্ষের জন্য হুঁশিয়ারি

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১০:৫৮ পিএম

এক কথায় অসাধারণ। ৪২ ওভারের মধ্যে ৩২২ রানের টার্গেট তাড়া করে জয়। তাও আবার ৭ উইকেট হাতে রেখে। দুর্ধর্ষ। আর সাকিব আল হাসানের ব্যাটিং যত দেখছি তত অবাক হচ্ছি। আমার ধারণা ও নিজেও অবাক হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয়ে কী দায়িত্ব নিয়েই না খেলল। লিটন কুমার দাসের কথাও বা ভুলবেন কীভাবে। অসাধারণ সাপোর্ট দিয়ে গেল। কী যে ব্যাট করল! আর বাংলাদেশের ওই কীর্তি সত্যিকারের অর্থে তাদের সামনের সব প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল।

এই জয়ে প্রমাণিত, বাংলাদেশ যেকোনো কিছুর জন্য নিজেদের ভালোভাবে তৈরি রাখছে। যেভাবে ৪১.৩ ওভারে উইন্ডিজকে বিরাট ব্যবধানে হারাল তাতে এই দলকে কেউ আর সহজভাবে নিতে পারবে না। কিন্তু সেমিতে খেলতে হলে বাংলাদেশের কী করতে হবে? আগেও বলেছিলাম, যে পরিস্থিতিতে দলটা পড়েছিল তাতে উইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে জিততে হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগামীকাল খেলা। এটা জিতলে সামনে যে দলগুলো আছে তাদের বিপক্ষে দুরন্ত কিছু করা ব্যাপারই হবে না বলে মনে করি। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন এই ম্যাচ জেতা খুব জরুরি।

বাংলাদেশ যেভাবে খেলল তাতে ইনশাল্লাহ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো কিছুই হবে। বাকি চার ম্যাচের প্রতিটি জিতলে নিশ্চিতভাবে হবে সেমিতে খেলার স্বপ্নপূরণ। কিন্তু এখন সবচেয়ে বেশি দরকার ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সব বিভাগে যেমন খেলল সেটা ধরে রাখা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরেকটু কঠিনভাবে খেলতে হবে। খেয়াল রাখা দরকার, ওদের বোলিং অ্যাটাক আর উইন্ডিজেরটা একরকম না। এরা অনেক ভালো। তারপরও কি জানেন, যে ক্রিকেট বাংলাদেশ খেলছে, যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমাদের ক্রিকেটাররা খেলছে তাতে আমি ভালো কিছুর আশাই করি।

পুরো বিশ্বকাপে একটা কথা বলে আসছি, বাংলাদেশের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের মধ্যে একজনকে বড় রান করতে হবে। সাকিব টনটনে যা খেলল, তেমনটা না হলে বাংলাদেশ হয়তো জিতত না। তামিম যেমনটা ভেবেছিলাম তেমনটাই করল। সতর্ক শুরুর পর সেটা আবার পুষিয়ে নিচ্ছিল। দুর্ভাগ্য, অবিশ্বাস্য এক রান আউট হয়েছে। ওপর থেকে যদি রান আসে তাহলে ওই ৭/৮/৯/১০ নম্বর ব্যাটসম্যানের দরকার পড়ে না। উইন্ডিজের বিপক্ষে ঠিক ওটাই করেছে বাংলাদেশ।

সাকিব-মুশফিকের মধ্যে কেউ বড় একটা রান করে, ৫/৬ নম্বরে লিটনদের কাছ থেকে ভালো সমর্থন মেলে আর ওপেনাররা ভালো একটা শুরু এনে দিলে বাংলাদেশের আর কিছু দরকার নেই। ছয় ব্যাটসম্যান, এক অলরাউন্ডার ও চার বোলার, ব্যস।

এবার আসুন একাদশের ব্যাপারে। একটা ব্যাপার মনে রাখুন, এটা আমার বাংলাদেশ। আমিও চাই দলটা সেমিফাইনালে খেলুক। একাদশের প্রসঙ্গ আনলে এমন জয়ের পর কেউ বিরক্ত হতে পারেন। তারপরও বলি। তাও ভালো ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন শুরুতেই বড় একটা উইকেট পেয়েছে। ব্রেক থ্রু দিয়েছে। যেভাবে এই ম্যাচে জিতেছে দল তাতে আগামী ম্যাচে একাদশে কোনো পরিবর্তন আশা করবেন না। অন্তত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

কিন্তু যদি চিন্তা করেন ম্যাচটাতে সাইফউদ্দিন ৭০-এর ওপরে রান দিয়েছে তাহলে ভাবনাটা বদলে ওখানে রুবেল হোসেনের কথা বলতে পারেন। দুটি আলাদা ব্যাপার। কোচ হিসেবে আমিও উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। এমন জয়ের পর আমি একাদশে পরিবর্তনের কথা বলছি না। কিন্তু এটা ঠিকই বলব, আমাদের দলে রুবেলের মতো একজন পেস বোলার ‘মিসিং’। কারণ, ওখানে ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের বিরুদ্ধে ঝড়ো অ্যাটাক জরুরি। আমার কথা হলো, সেইফ সাইডে থাকা ভালো। তবে এই মুহূর্তে হয়তো টিম ম্যানেজমেন্ট এটা নিয়ে ভাববে না।

ও, বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ের কথা না বললেই না। এক সপ্তাহ গ্যাপ। কাজ হয়ে গেল। এই গ্যাপটাকে কাজে লাগানোর কথা বলে আসছিলাম। হাতে পাওয়া ওই কটা দিন খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে ‘প্যানিক’ হয়ে যেতে পারে। সবদিক থেকে অবস্থা এত খারাপ থাকে যে একটা গ্যাপ জরুরি হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ খুব ভালো সময় সেটা পাওয়ায় ছোটখাটো কাজগুলো করে নিয়ে নিজেদের গুছিয়ে নিতে পেরেছে বলে বিশ্বাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত