ভারতের মন্দিরশহর বারানসি। গত বছরের নভেম্বরের এক রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে মুমুক্ষ ভবন অতিথিশালার এক কক্ষ থেকে শোনা যাচ্ছে প্রার্থনার শব্দ। ভেতরে কী হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না বাইরে থেকে। বিবিসির সাংবাদিক রমিতা সালুজা ভেতরে যেতে চাইলে ওই কক্ষের বাইরে বসে থাকা বয়স্ক এক নারী তাকে ‘নিমক পাড়া’ খেয়ে প্রবেশ করতে বলেন। ওই বৃদ্ধার নাম সরস্বতী আগারওয়াল। স্বামী সন্তানহীন সরস্বতী গত চার বছর ধরে এই অতিথিশালায় আছেন।
রাজস্থানের গায়ত্রী দেবীও গত পাঁচ বছর ধরে এই অতিথিশালায় আছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে, যারা খুব একটা আসে না মাকে দেখতে। প্রতিদিন অতিথিশালা সংলগ্ন মন্দিরের সামনে বসে জীবনের শেষ অধ্যায়ের পাঠ নেন তিনি। সন্তানরা পিতা-মাতার দেখভাল কেন করে না এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল তাদের মধ্যে। গায়ত্রী দেবীর পাশে বসা সতী দেবী বলে ওঠেন, ‘এসব নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। যখন আমি মারা যাব, আমি আশা করি তখন তারা আসবে আমাকে চিতায় তুলতে।’
বারানসিতে এমন অনেক নারী আছেন যারা বছরের পর বছর ধরে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে আছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য বারানসি পবিত্র স্থান। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর পঞ্চ পাণ্ডব এই শহরের কাশীঘাটে এসে ¯œান করেছিলেন নিজেদের পাপ স্খলনের জন্য। তারই ধারাবাহিকতায় আজও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসে এই ঘাটে ¯œান করে মোক্ষ লাভের আশায়। বারানসি ঘাটে ¯œান আর মৃত্যুর পর এই ঘাটেই দাহ করা হলে মানুষের আর পুনর্জন্ম হয় না বলেও বিশ্বাস করে হিন্দুরা।
মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য বারানসিতে এমন অনেক অতিথিশালা আছে যেখানে তারা বছরের পর বছর ধরে থাকছেন। দাতব্য সংস্থা ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীর অর্থায়নে এই অতিথিশালাগুলো চলে। কাশীতে যারা মৃত্যুর জন্য আসেন তারা এই অতিথিশালায় বাস করতে পারেন। মুমুক্ষ ভবনের পরিচালক ভি কে আগারওয়াল বলেন, ‘প্রতি বছর কয়েক টন চিঠি আসে আমাদের কাছে। কিন্তু সীমিত সংখ্যক কক্ষ থাকায় তাদের আবেদন আমাদের পক্ষে রাখা সম্ভব হয় না। এখানে অনেকে বছরের পর বছর ধরে থাকেন। যাদের অধিক প্রয়োজন এবং ব্যয় নির্বাহ করতে পারেন তাদের জন্য ব্যবস্থা করার চেষ্টা হয়। আর ৬০ বছরের নিচে কাউকে থাকতে দেওয়া হয় না।’
