অভিবাসনের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করে ক্ষমতায় এসেছিলেন রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাখার স্লোগান।
ক্ষমতায় এসে একের পর এক অভিবাসন বিরোধী পদক্ষেপ নিতে থাকেন ট্রাম্প। তার বিতর্কিত সব পদক্ষেপ থেকে রেহাই পায়নি দুধের শিশুও।
আনন্দবাজার জানায়, এমনই এক শিশু কনস্টান্টিন। মাত্র চার মাস বয়সে মার্কিন সীমান্তরক্ষীরা তাকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যায়। আর আট মাস বয়সে মায়ের কোলে ফিরে মাকেই চিনতে পারছে না সে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদপত্রের ওঠে আসে হতভাগা কনস্টান্টিনের করুণ কাহিনী। ২০১৮ সালে রোমানিয়া থেকে মার্কিন সীমান্তে এসেছিল মুটু পরিবারটি। শিশুটির বাবা ভাসিলে ও মা ফ্লোরেন্টিনা সংখ্যালঘু রোমা সম্প্রদায়ের মানুষ।
দীর্ঘদিনের দাসত্ব, অভাব, বৈষম্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবে পরিবারটি। বাড়িঘর বিক্রি করে মেক্সিকোর উদ্দেশে পাড়ি দেন তারা। পাচারকারীরা তাদের মার্কিন সীমান্ত পার করে দেওয়ার লোভ দেখায়।
কিন্তু সীমান্তে যাওয়ার জন্য বাস ধরার পরেই আলাদা হয়ে যান ভাসিলে ও ফ্লোরেন্টিনা। কনস্টান্টিনকে নিয়ে সীমান্তে পৌঁছে যান বাবা ভাসিলে। সেখানে পৌঁছাতেই কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই শিশুটিকে কেড়ে নেয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
ভাসিলে বলেছেন, “ওরা আমাকে দু’মাস আটকে রেখেছিল। পুলিশ আমাকে দিয়ে ঘর মোছাত। আমি কান্নাকাটি করতাম ছেলের জন্য। ওদের বলেছিলাম, আমি ইংরেজি বুঝি না, বলতে পারি না।”
অন্যদিকে ফ্লোরেন্টিনাকে রোমানিয়ায় ফেরত পাঠানো হয় সীমান্ত থেকেই।
ছেলেকে ফেরত পাওয়ার আশায় দিন গুনতে থাকেন ভাসিলে। তত দিনে মিশিগানে পালক পরিবারের কাছে পৌঁছে যায় শিশু কনস্টান্টিন। নিরিবিলি এক গ্রামে আদর-যত্নেই বড় হতে থাকে সে।
শিশুটির আট মাস বয়সে অভিবাসন সংক্রান্ত আদালত তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু তত দিনে নিজের মাকে ভুলে গেছে দুধের শিশু। মায়ের কোলে ফিরেও পালক মায়ের জন্য কান্না থামে না তার।
সম্পূর্ণ অন্য পরিবেশে, অন্য ধরনের মানুষের মধ্যে এসে আতঙ্কে ভুগতে থাকে শিশুটি। বর্তমানে দেড় বছরের বেশি বয়স হলেও এখনো বুলি ফোটেনি কনস্টান্টিনের। একা হাঁটতেও শেখেনি সে।
এমন বিড়ম্বনায় কেবল কনস্টান্টিনই একাই পড়েনি। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জেরে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে ১,৯৫৫ জন শিশুকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল তাদের বাবা-মায়ের থেকে। পরে পরিবারে ফিরলেও এসব শিশু ট্রমার মধ্য দিয়েই যাচ্ছে।
