উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও জেলার তিন উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ভারত থেকে আসা উজানের পানির চাপে খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে করে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সির্ন্দুণা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ও রাজপুর ইউনিয়নের ১২ গ্রামের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে; বিশেষ করে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে পানির প্রকোপ বেশি। এই ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় গোবরধন ইসমাইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবরধনহাট ইসমাইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শপাড়া এমএস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবরধন হায়দারিয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবরধন চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সোবহানিয়া মাদ্রাসাসহ ৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পানিতে তলিয়ে গেছে বাদাম, ভুট্টা, বোরো বীজতলাসহ সবজিক্ষেত।
গোবরধন এলাকার বাদামচাষি রাশেদুল, বায়েস ও রাজা বলেন, ‘বাহে, মঙ্গলবার দুপুরে নদীর পশ্চিম পাশের গোবরধন ও চান্দের চরে ক্ষেত থাকি বাদাম তুলি পালা করে রাখছিনু। ভাবছিনু বুধবার (আজ) সকালে বাদাম তুলি বাজারত নিয়া যামো। এক রাইতে পানি আসিয়া সবকিছু ভাসে নিয়া গেল।’ ওই এলাকার ভুট্টাচাষি হামিজ মেম্বার, মাহফুজার রহমানের মতো অনেক কৃষকের কষ্টার্জিত আবাদ আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পানিবন্দি মানুষের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গোবরধন এলাকার কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডর আবদুল হাকিম জানান, ৪০০ থেকে ৫০০ পরিবারকে তারা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করেছেন।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, আকস্মিক বন্যার কারণে মহিষখোচা ইউনিয়নের ৫টি ওয়ার্ডের দুই থেকে তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
