চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিভিন্ন বিপণিবিতান ও আবাসিক ভবনে নিজস্ব ফায়ার সেফটি প্ল্যান না থাকায় বাড়ছে অগ্নিদুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের প্রবেশমুখে দেওয়া গোলবারের (সেফটিবার) কারণে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে পারছে না। পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে পুকুর। অগ্নিকান্ডে এ পানির উৎসের অভাবেও বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে উপজেলায় ৭৬টি অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। আর চলতি বছর ৩০টি অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিপণিবিতানে গিয়ে দেখা যায় মার্কেটগুলোতে নেই নিজস্ব কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। বাণিজ্যিক ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট। যেখানে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে খাবার রান্না করা হয়। ফলে অগ্নিকা- ঘটলে পুরো বিপণিবিতানে আগুন লাগার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল, পেট্রল পাম্পে ফায়ার এক্সটিংসার লাগানো থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ। উপজেলাতে কী পরিমাণ আবাসিক ভবন ও বিপণিবিতান অগ্নিঝুঁকিতে আছে তার নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, বারইয়ারহাট পৌরসভার প্রত্যেকটি বাণিজ্যিক ভবনে নিজস্ব ফায়ার সেফটি প্ল্যান থাকার কথা থাকলেও তা নেই। এ ছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল-রেস্টুরেন্ট। ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে হোটেল বা রেস্টুরেন্ট করার সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না কেউ।
এ প্রসঙ্গে বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র নিজাম উদ্দিন বলেন, পৌরসভা থেকে একটি কমিটি করে পৌর এলাকার বিভিন্ন ভবনে পাঠানোর চিন্তা আছে। তারা গিয়ে কোনো ঘাটতি দেখলে কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করবে। তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইন্সপেক্টর মো. রবিউল আযম বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এজন্য প্রতিটি আবাসিক ভবন ও বিপণিবিতানে নিজস্ব ফায়ার সেফটি প্ল্যান থাকা প্রয়োজন। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার যেকোনো স্থানে আগুন লাগলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা নেভানোর জন্য স্টেশনে আরও একটি টানাগাড়ির প্রয়োজন।
