শিক্ষকের চেয়ারে বসায় এক মাদ্রাসা ছাত্রের কবজি কেটে দিলেন শিক্ষক। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ছাত্রের নাম মো. সাব্বির হোসেন (১৪) ।
শনিবার বিকালে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মো. ফোরকান হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ওই ছাত্রের মা তাসলিমা বেগম।
আহত সাব্বির নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. আবদুল আলিমের ছেলে ও শিক্ষক ফোরকান হোসেন একই এলাকার মৃত আবদুল হাইয়ের ছেলে।
জানা যায়, ১২ জুন বেলা ১১টার দিকে জাফরাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদরাসার একটি শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত শিক্ষার্থী সাব্বিরকে ভর্তি করে তার পরিবার।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সাব্বির হোসেন বলেন, হুজুরের (শিক্ষক) ও আমার বাড়ি মাদ্রাসার পাশেই। ঘটনার দিন আমি দুই বন্ধুকে নিয়ে মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষে চেয়ারে বসেছিলাম। এ সময় হুজুর এসে চেয়ারে বসার কারণে আমাদের গালমন্দ করেন।
সে আরো জানায়, হুজুর আমাকে প্রথমে চড়থাপ্পড় মারেন। এরপর তার হাতে থাকা দা দিয়ে আমাকে কোপ দিতে গেলে আমি হাত দিয়ে তা থামাই। এ সময় আমার বামহাতের কব্জি কেটে যায়।
আহত সাব্বিরের মা তাসলিমা বেগম বলেন, শিক্ষকের দায়ের কোপে আহত হওয়ার পর আমার ছেলেকে রাজাপুর হাসপাতালে না এনে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। ফলে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনার বিচার চাই। তবে তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কোথাও কোনো অভিযোগ করতে পারিনি। অভিযোগ করলে গ্রামে থাকাটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক ফোরকান হোসেন বলেন, আমি সাব্বিরকে কোপ দিইনি। ঘটনার দিন মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। মাদ্রাসার পাশের একটি সবজি ক্ষেতে আমি কাজ করছিলাম। তখন মাদরাসার ভেতরে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে টেবিল চাপড়ে গান-বাজনা করছিল সাব্বির ও তার বন্ধুরা। তখন আমি সেখানে গিয়ে সাব্বিরকে গালমন্দ করি ও চড়থাপ্পড় দিই।
এ সময় আমার হাতে থাকা দায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে সাব্বিরের হাত কেটে যায়। ওর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ আমি বহন করছি।
