কার্বন নির্গমন কমাতে সিঙ্গাপুর নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সিঙ্গাপুর সে দেশের বাতাসের মান উন্নত করতে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বাসগুলোর ছাদে সবুজায়ন শুরু করেছে। গত মাসে জিডব্লিউএস লিভিং আর্ট নামের একটি কোম্পানি দেশটির ১০টি বাসের ছাদে সবুজায়ন শুরু করে।
বাসের ছাদে এই সবুজায়ন থেকে যেমন পরিবেশ ভালো হবে, তেমনি হবে আর্থিক লাভ। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণা মতে, ভবনকে শীতল রাখতে সবুজ ছাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে একদিকে যেমন বন্যার ঝুঁকি কমে, অন্যদিকে পরিবেশে দূষণও কমে অনেক।
পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন প্রজাতির সংখ্যা কমছে এবং মানুষের শরণার্থী হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। আধুনিক নগর পরিকল্পনাবিদরা এই সমস্যা সমাধানে নতুন নতুন পথ খুঁজছে। তিন মাসের পরিকল্পনার ফলে সিঙ্গাপুরে এই ‘গার্ডেন অন দ্য মুভ’ ক্যাম্পেইন শুরু হয়। বলা হচ্ছে, ছাদ সবুজায়ন করার ফলে বাসের অভ্যন্তর শীতল থাকবে এতে বাসের ফুয়েল ব্যয় কম হবে। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষণা সহযোগী টান চুন লিয়াং বলেন, ‘ভবনগুলোর সবুজায়নের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মানুষ যতটা জানে, যানবাহনে সবুজায়ন নিয়ে ততটা জানে না।’ সিঙ্গাপুরের বাসে সবুজায়নের এই উদ্যোগ পৃথিবীর অন্য শহরগুলোকেও কার্বন নির্গমন কমাতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে তিনি মনে করেন।
২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ শতাংশ ভবন সবুজায়নের ‘গ্রিন মার্ক স্কিম’ এরই মধ্যে নেওয়া আছে সিঙ্গাপুরের। এ ছাড়া আগামীতে গার্ডেন সিটি হিসেবে বিশ্বের সামনে নিজেদের পরিচয় করাতে চায় দেশটি। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার মতে, গত ২৫ বছরে সিঙ্গাপুরে ১০ বছরই ছিল সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রার।
জিডব্লিউএস লিভিং আর্টের মতে, সবুজায়ন করা বাস যখন নগরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাতাসের মান ভালো হতে শুরু করবে। এতে একদিকে যেমন বাসের ছাদের সবুজ গাছপালা বন্যা সৃষ্টিকারী জলীয়বাষ্প শুষে নেবে, পাশাপাশি মৌমাছি, প্রজাপতি ও পাখিদের সংখ্যা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।
